বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হেরে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ব্রুনো গিমারাইসের মিস করা পেনাল্টি। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া সেই সুযোগ থেকে গোল করতে না পারায় প্রশ্ন উঠেছে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি কিংবা মাতেউস কুনিয়ার মতো খেলোয়াড়রা মাঠে থাকা সত্ত্বেও কেন গিমারাইসকে পেনাল্টি নিতে পাঠানো হয়েছিল। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। তবে ব্রুনো গিমারাইসের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। পরে দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
আরও পড়ুনঃ জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন নেইমার!
পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনার জবাবে আনচেলত্তি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। টেকনিক্যাল স্টাফরা আগেই দীর্ঘ আলোচনা করে পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম নির্ধারণ করেছিলেন। সেই তালিকায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চেয়েও এগিয়ে ছিলেন ব্রুনো গিমারাইস। আর যাঁরা তাঁর আগে ছিলেন, তাঁদের কেউ তখন মাঠে ছিলেন না।
এ বিষয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো ছিল নেইমার। তারপর ইগর থিয়াগো, তারপর রাফিনিয়া, এবং এরপর ব্রুনো গিমারাইস। মার্তিনেল্লি ছিল এদের সবার পরে। আমরা ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ওই সেরা বলে আমাদের মনে হয়েছিল।’
গিমারাইসের পেনাল্টি মিস ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারানোর পর ধীরে ধীরে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নরওয়ে। শেষ পর্যন্ত আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ব্রাজিলের।

