মালদ্বীপে চার জাতির টুর্নামেন্টে মারামারি ও রেফারিকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড আল-আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। জাতীয় দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলা এই ফুটবলারের সামনে অবশ্য শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিন আগেই আল-আমিনের ১৫ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার চিঠি পেয়েছে ফেডারেশন।
বাংলাদেশ জাতীয় দল বছরে সাধারণত সাত থেকে আটটির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে না। সে হিসাবে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আল-আমিনকে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে রাখতে পারে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হলে প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ম্যাচে তাঁর খেলার সুযোগ না-ও হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বাংলাদেশি ফুটবলারের ওপর এটিই অন্যতম বড় নিষেধাজ্ঞা। এর আগে ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে রেফারিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বাংলাদেশ দলের তৎকালীন অধিনায়ক ইলিয়াস হোসেন এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।
আল-আমিনের শাস্তির সূত্রপাত গত ৭ জুন মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের ম্যাচে। মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টের’ সেই ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়।
ঘটনার শুরু যোগ করা সময়ে। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মালদ্বীপের হাসান ইনাজ মাটিতে পড়ে যান। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা।
সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করে লাল কার্ড পান আল-আমিন। লাল কার্ড দেখার পর মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি রেফারিকে ধাক্কা দেন।
হট্টগোলের কারণে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলেও মাঠের উত্তেজনা কমেনি। পরে বাংলাদেশের অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের অন্য খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হন এবং শুরু হয় হাতাহাতি ও মারামারি।
মাঠের উত্তেজনার প্রভাব গ্যালারিতেও পড়ে। বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
নীলফামারীর আল-আমিন এর আগেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন। ২০২০-২১ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলার সময় ক্লাবটি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে শাস্তি পায়। সে সময় কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে আল-আমিনও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

