ভিন্ন দুই ক্লাবে খেললেও ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ মাতাবেন তারা দুই ভাই

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

লুকাস হার্নান্দেজ ও থিও হার্নান্দেজ
লুকাস হার্নান্দেজ ও থিও হার্নান্দেজ|ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও ফ্রান্সের জার্সিতে একসঙ্গে খেলবেন লুকাস হার্নান্দেজ ও থিও হার্নান্দেজ। ভিন্ন দুই ক্লাবে খেললেও জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই দুই ভাই। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ফ্রান্সের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন তারা দুজনই।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভাইদের একসঙ্গে খেলার ঘটনা নতুন নয়। তবে হার্নান্দেজ ভাইদের গল্প আলাদা গুরুত্ব পায় তাদের দীর্ঘ পথচলা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় দলে ধারাবাহিক অবদানের কারণে। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের সেই গল্পে যোগ করতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।

জাতীয় দলে একই জার্সি গায়ে খেললেও ক্লাব ফুটবলে দুই ভাইয়ের পথ একেবারেই আলাদা। বড় ভাই লুকাস হার্নান্দেজ খেলেন ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) হয়ে। সেন্টার-ব্যাক ও লেফট-ব্যাক—দুই পজিশনেই খেলতে পারেন তিনি। রক্ষণে দৃঢ়তা, ট্যাকলিং এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত।

অন্যদিকে ছোট ভাই থিও হার্নান্দেজ বর্তমানে খেলেন সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে। বিশ্বের অন্যতম আক্রমণাত্মক লেফট-ব্যাক হিসেবে পরিচিত থিও। তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণে অংশ নেওয়ার দক্ষতা তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে তিনি সবসময়ই কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

খেলার ধরনেও দুই ভাইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। লুকাস বেশি মনোযোগ দেন রক্ষণ সামলানোয়, আর থিওর শক্তি আক্রমণে। তবে মাঠে তাদের লক্ষ্য একটাই—দলের সাফল্য নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে খেলবেন নেইমার, গ্যারান্টি দিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি

ফুটবলের সঙ্গে হার্নান্দেজ পরিবারের সম্পর্ক বহু দিনের। তাদের বাবা জ্যাঁ-ফ্রাঁসোয়া হার্নান্দেজও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। লুকাস ও থিও দুজনেই স্পেনের ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের যুব একাডেমিতে ফুটবল শিক্ষা নিয়েছেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের পেশাদার ক্যারিয়ার। পরে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন তারা।

দুই ভাইয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০২১ সালে। সে বছর তারা ফ্রান্সের হয়ে একই ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেন। ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো দুই ভাই ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে ম্যাচ শুরু করেছিলেন। এই কীর্তি ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপও হার্নান্দেজ ভাইদের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের শুরুতেই চোটে পড়েন লুকাস হার্নান্দেজ। এরপর থিও দলের বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। সেই বিশ্বকাপ দেখিয়ে দেয়, ফ্রান্সের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দুই ভাইয়ের গুরুত্ব কতটা।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দুজনই সুস্থ আছেন এবং জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। ফলে ফ্রান্স তাদের অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে হার্নান্দেজ ভাইদের লক্ষ্য একটাই—ফ্রান্সকে আবারও শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের পরিবারের যে বিশেষ ইতিহাস তৈরি হয়েছে, সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগও থাকবে তাদের সামনে।

ভিন্ন দুই ক্লাবে খেললেও ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে লুকাস ও থিও হার্নান্দেজকে। আর সেই দৃশ্যই হতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় পারিবারিক গল্প।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!