বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি ইউরোপের দলগুলোর, নেপথ্যে কী

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও উয়েফা সেফেরিন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও উয়েফা সেফেরিন|ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নতুন পরিকল্পনা ঘিরে উয়েফা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এখন বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিচ্ছে। এই বর্জনের সম্ভাবনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা চলতি সপ্তাহেই তাদের ৫৫টি সদস্যদেশকে নিয়ে একটি জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর এই বড় ধরনের বিরোধের সূত্রপাত হয়। স্কাই স্পোর্টস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোলে তাঁকে চাপে ফেলতেই মূলত ইউরোপের দেশগুলো বিশ্বকাপ বর্জনের মতো কঠোর কৌশল নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ফিফার এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এফএফই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব, যেমন সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও লাইসেন্সিং এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বিক্রি করে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সংস্থাটি এই নতুন প্রতিষ্ঠানের মূলধন ধরেছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড। ফিফা দাবি করেছে, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন পেলে এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী চার বছরে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।

তবে উয়েফা এক বিবৃতিতে এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, ফিফা ‘সীমা অতিক্রম করেছে’। ইএসপিএন জানিয়েছে, ফিফার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বর্জনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই এই জরুরি বৈঠক করতে চায় উয়েফা, যেখানে সব সদস্যদেশ অংশ নেবে। এর আগে ২০২১ সালেও প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। তবে সে সময়ও উয়েফার বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন, এবারও ফিফার নতুন পরিকল্পনা ঠেকাতে উয়েফা একই ধরনের বর্জনের কৌশল নিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা বিক্রি করতে চায় ফিফা

এই পরিকল্পনা প্রকাশ পাওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গতকাল রাতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নয়। এটি তাঁদের, যাঁরা বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে প্রতি সপ্তাহে গ্যালারি ভরান এবং মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দলকে সমর্থন করেন।’ উয়েফা ও ফিফার সম্পর্ক বেশ আগেই তলানিতে পৌঁছেছে। ফিফার শাসনব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বিতর্ক, বিশেষ করে বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগান ইস্যুতে সংস্থাটির ভূমিকার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ ফাইনালেও যাননি উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার চেফেরিন।

গতকাল পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে একটি বিশেষ কারণে। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন নিউইয়র্কে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে ফিফা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করলেও সেখানে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কোনো উল্লেখই করেনি তারা। অথচ পরে হঠাৎ করেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এই পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও দ্য টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্কটিশ ও ওয়েলশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে স্কাই স্পোর্টস।

খবর প্রকাশের পর এক কড়া বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ‘ফুটবলের আত্মা ও এর পরিচালনব্যবস্থা কোনো বেচাকেনার সম্পদ নয়।’ বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। বিষয়টিকে উয়েফা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল সংস্থারও একইভাবে দেখা উচিত। এ ছাড়া লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার—ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা ভাবেন, প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!