কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচেও গোলের দেখা পাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফলে ফিফা বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তার গোলখরা পৌঁছে গেছে টানা ১০ ম্যাচে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপে এখনো নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক।
কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিংয়ের কারণে পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন তিনি, যা তার দীর্ঘ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন টাচের রেকর্ড। ম্যাচজুড়ে তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
আরও পড়ুনঃ আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করে কেঁদেছিলেন মেসি, সামনে এলো আসল রহস্য
ম্যাচ শেষে ফক্স স্টুডিওতে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি। তিনি বলেন, 'গোল করার জন্য রোনালদোর অতিরিক্ত মরিয়া ভাব ও স্বার্থপর মানসিকতার কারণেই ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের পাস থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিশ্চিত গোলের সুযোগটি হাতছাড়া হয়েছে।'
এই ম্যাচের পর বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা আরও দীর্ঘ হলো। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে আর কোনো গোল করতে পারেননি।
পরিসংখ্যান বলছে, কাতার বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচ, ২০২৪ ইউরোর পাঁচ ম্যাচ এবং চলতি বিশ্বকাপের কঙ্গো ম্যাচ—সব মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোলশূন্য রয়েছেন রোনালদো। এই সময়ে তিনি মোট ৩৩টি শট নিয়েছেন, যার মধ্যে ১১টি ছিল অন-টার্গেট। কিন্তু কোনো শটই জালে জড়াতে পারেননি।
অথচ রোনালদোর ক্যারিয়ার অর্জনে ভরপুর। পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন। তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৭০। পর্তুগালের জার্সিতে ২২৯ ম্যাচে ১৪৩ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি অনেক আগেই নিজের করে নিয়েছেন।
ক্লাব ফুটবলেও তার সাফল্য অনন্য। ১৮৩ ম্যাচে ১৪০ গোল নিয়ে তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির লিগে সাফল্যের পর বর্তমানে খেলছেন সৌদি আরবে। ক্যারিয়ারে চারবার জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। ২০১৬ সালে পর্তুগালের ইউরো শিরোপা জয়ের পথেও রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আরও পড়ুনঃ মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর কথা ভাবছিলাম: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার আক্ষেপ এখনও তাড়া করে ফিরছে তাকে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—পাঁচটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেললেও কোনো গোল করতে পারেননি রোনালদো। বিশ্বমঞ্চে এটিই তার সবচেয়ে আলোচিত অপূর্ণতার একটি।
ফিফার নতুন নিয়মে এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে রাউন্ড অব ৩২। শক্তির বিচারে পর্তুগালের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল। তাই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সমর্থকের আশা, এবার অন্তত নকআউট পর্বে গোল করে দীর্ঘদিনের এই আক্ষেপ ঘোচাবেন তাদের প্রিয় তারকা।
চলতি বিশ্বকাপে রোনালদোর পাশাপাশি আরও দুজন ফুটবলার নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তাদের একজন মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়া, যিনি এখনো মাঠে নামেননি।
অন্যজন লিওনেল মেসি। রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এই আর্জেন্টাইন তারকা নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শুরু করেছেন দুর্দান্তভাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
যেখানে রোনালদোর বিশ্বকাপ নকআউট গোলের সংখ্যা এখনও শূন্য, সেখানে মেসির নকআউট গোল রয়েছে পাঁচটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলশূন্য থাকার আক্ষেপ তাই এখনও রোনালদোর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অপূর্ণতা হয়ে আছে।

