বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে ব্রাজিল। কাফ মাসলের চোটে ভোগা তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র শুধু মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচই নয়, পুরো গ্রুপ পর্ব থেকেও ছিটকে যেতে পারেন বলে দাবি করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম। এমন পরিস্থিতিতে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে অভিযাত্রার শুরুতে নিজেদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামতে হতে পারে সেলেসাওদের।
ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন, মরক্কোর বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকেই কাফ মাসলের চোটের কারণে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন তিনি এবং এখনও মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরতে পারেননি।
তবে নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী আনচেলোত্তি। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'নেইমার যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমরা আশা করছি তিনি আগামী সপ্তাহেই দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন।'
চোটে আক্রান্ত হলেও নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন ব্রাজিল কোচ। তার পরিবর্তে শতভাগ ফিট কোনো খেলোয়াড়কে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। আনচেলোত্তির মতে, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের ভেতরে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা যখন নেইমারকে দলে ডেকেছিলাম, তখন শুধু তার ফুটবলীয় দক্ষতার কথা ভাবিনি, যা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আমরা তার অভিজ্ঞতা এবং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে তিনি যে বড় উদাহরণ হতে পারেন, সেই দিকটির কথাও বিবেচনা করেছি।'
আরও পড়ুনঃ যে ছয় কারণে বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল
তবে কোচের আশাবাদের মাঝেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএল এস্পোর্তের প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নেইমারের পুরো গ্রুপ পর্ব খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিল দলের মেডিকেল স্টাফরা তার কাফ মাসলে ‘গ্রেড টু’ চোট শনাক্ত করার পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সে হিসাবে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ মিস করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ছিল।
কিন্তু নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটিও মিস করতে পারেন নেইমার। এমনকি তিনি অনুশীলনে ফিরলেও পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ গত ১৭ মে থেকে তিনি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার চোটে পড়ায় তাকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর ঝুঁকি নিতে চায় না ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট। চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফদের আশঙ্কা, তাড়াহুড়ো করে খেলানো হলে পুরোনো চোট আবারও ফিরে আসতে পারে, যা দলের জন্য আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ফলে বিশ্বকাপে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট সময় এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন যে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে কোনো দ্বিমত নেই।

