ঢাকা টেস্টে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 মিরপুর টেস্টে ব্যাট করছে বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টে ব্যাট করছে বাংলাদেশ |ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে শুরুটা ভালো করেছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে এক উইকেট হারিয়ে ৬০ রান তোলার পর লাঞ্চের আগে আরও একটি উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। তবে ওপেনার সাদমান ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ রান। সাদমানের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের জুটিতে এগিয়ে যায় দল। পরে সাদমান তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি। তবে ১৯ রান করে রিভিউয়ে আউট হন নাজমুল।

নতুন বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফ শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। তাঁদের বোলিংয়ে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা লেংথ বলটি কাভার দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো গ্রিভসের হাতে।

তানজিদের বিদায়ের পর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দলের হাল ধরেন। দুজনের ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে ওঠে ৫৯ রানের জুটি। বাউন্ডারির পাশাপাশি এক ও দুই রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তাঁরা। তবে ২৮ রান করে ইনিংস বড় করার সুযোগ হারান মুমিনুল। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিড অফের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেননি তিনি। বলটি সরাসরি মিড অফে দাঁড়ানো শামার জোসেফের হাতে জমা পড়ে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন মুমিনুল। বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ নিলাম শেষে দেখুন, ডি-থ্রি টুর্নামেন্টে কে কোন দলে

মুমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেনকে নিয়ে জুটি গড়েন সাদমান। তাঁদের ব্যাটিংয়ে ১০০ রানের মাইলফলক পার করে বাংলাদেশ। শুরুতে রান পেতে কিছুটা সময় নিলেও পরে সাবলীল হয়ে ওঠেন সাদমান। ইনিংসের ১৬তম বলে প্রথম রানের দেখা পাওয়া এই ওপেনার শেষ পর্যন্ত তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক।

তবে ১৯ রান করে আউট হন নাজমুল। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে সুইপ করতে গিয়ে বল মিস করেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোরালো আবেদনে প্রথমে সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে অধিনায়ক রোস্টন চেজ রিভিউ নিলে দেখা যায়, বল স্টাম্পের লাইনে পিচ করেছে, ইমপ্যাক্টও লাইনে ছিল এবং বলটি মিডল-লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। নাজমুলের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তাওহিদ হৃদয়।

এদিকে চোটের কারণে এই টেস্টে খেলতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। গতকাল সকালে অনুশীলনের সময় ডান হাতের তর্জনিতে চোট পান তিনি। ব্যথায় কাতরাতে থাকা মুশফিক আঙুলে টেপ পেঁচিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান এবং সেদিন আর ব্যাটিং করেননি। এক্স-রে রিপোর্টে গুরুতর সমস্যা ধরা না পড়ায় তাঁকে একাদশে রাখার সম্ভাবনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

মুশফিকের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর। এরপর গত আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সাড়ে তিন শ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের একাদশে দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে রয়েছেন তিন স্পিনার।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!