অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে এশিয়ার পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান যে কীর্তি দ্রুত করতে পারেনি, সেটিই করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শুধু নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ই পায়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দল, গড়েছে অনন্য এক রেকর্ডও।
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে জয় পাওয়া এশিয়ান দল এখন বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং, তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাড়ে তিন দিনের মধ্যেই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে ২০০৩ সালে দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা। দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর নিজেদের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে জয় পেতে এশিয়ার অন্য দলগুলোর লেগেছে আরও বেশি সময়। পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ছয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পায়নি। সপ্তম ম্যাচে গিয়ে তারা প্রথমবার সাফল্যের দেখা পায়।
আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের ক্ষেত্রেও অপেক্ষাটা ছিল আরও দীর্ঘ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ১১ টেস্টে জয়হীন থাকার পর ১২তম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয় পায় ভারত। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৫টি টেস্ট খেলেও জয়ের মুখ দেখেনি।
১৯৯৫ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পেরেছে এশিয়ার মাত্র দুটি দল—ভারত ও বাংলাদেশ। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে টাইগাররা।
ডারউইন টেস্টের ৯ উইকেটের জয়টি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় বড় জয়। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—এসইএনএ দেশগুলোর মাটিতে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউ জিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল তারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে সাতটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে এটি দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
ডারউইনের এই জয় তাই শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

