ইতিহাসের মহা অঘটন, চতুর্থ স্তরের ক্লাবের কাছে বিদায় আর্সেনালের

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 অঘটনের শিকার আর্সেনাল
অঘটনের শিকার আর্সেনাল |ছবি: সংগৃহীত

ইংলিশ ফুটবলে ঘটল অবিশ্বাস্য এক অঘটন। কারাবাও কাপের ম্যাচে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় ফ্লিটউড। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইংলিশ ফুটবলে বিরল এক ইতিহাস গড়েছে দলটি।

ফুটবল পিরামিডে আর্সেনালের চেয়ে ৮৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা ফ্লিটউডের এমন জয়কে বড় অঘটন হিসেবেই দেখছেন সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে আনন্দে মেতে ওঠেন স্বাগতিক দলের সমর্থকেরা। উচ্ছ্বাসে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েন। পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালের ব্রুনো গিমারায়েসের শট ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। এরপর কিশোর ডিফেন্ডার কনর হগির জোরালো শটে নিশ্চিত হয় দলের ঐতিহাসিক জয়।

এই প্রথম বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন কোনো চতুর্থ স্তরের দলের কাছে লিগ কাপ থেকে বিদায় নিল। ফলে ফ্লিটউডের এই জয় ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিল।

ম্যাচ শেষে ফ্লিটউডের কোচ ম্যাট ললর নিজের উচ্ছ্বাস লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছি। এটি দেখিয়ে দেয়, আমাদের দল কতটা ভালো। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। প্রতিপক্ষের বিবেচনায় এটি ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাত। আর কোনোভাবে আমরা চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিয়েছি!’

ম্যাচে আর্সেনাল পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামেনি। ডেকলান রাইস, গ্যাব্রিয়েল ও ডেভিড রায়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা ছিলেন না। তবে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডসহ অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়ে শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ মিকেল আর্তেতা।

আরও পড়ুনঃ ৪৫ বছর পর বায়ার্নের কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জয়, রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন হ্যারি কেইন

অন্যদিকে, লিগ টুতে ১৮তম স্থানে থাকা ফ্লিটউড শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের ২১ মিনিটে ফুলহ্যাম থেকে ধারে খেলতে আসা অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধে আর্সেনালের খেলায় ছন্দের অভাব দেখা গেলেও বিরতির পর আক্রমণে গতি বাড়ায় দলটি।

মার্টিন ওডেগার্ডকে মাঠে নামানোর পর আর্সেনালের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৫০ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সমতায় ফেরে গানাররা। মৌসুমে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালালেও নির্ধারিত সময়ে আর গোল করতে পারেনি লন্ডনের ক্লাবটি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ফ্লিটউডের পাঁচটি শটই জালে জড়ায়। বিপরীতে ব্রুনো গিমারায়েসের শট ঠেকিয়ে দিয়ে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন গোলরক্ষক জে লিঞ্চ।

এমন হারে হতাশ আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাও। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত হতাশার দিন। খেলোয়াড়দের মনোভাব নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কাজ কেউ করেনি, এমনটা আমি দেখিনি। কিন্তু আমাদের হাতে বল ছিল অনেকক্ষণ, সুযোগ ছিল প্রচুর, শটও নিয়েছি অনেক। পেনাল্টি পর্যন্ত গড়ানোর আগেই ব্যবধান বাড়াতে চাইলে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হয়।’

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!