মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা দেখতে চান স্পেনের রাষ্ট্রদূত

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি|ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার একটি ফিনালিসিমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত হোয়াকিন মারিয়া দে আরিস্তেগি লাবোর্দে। তার মতে, বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াই মেসিকে বিদায় জানানোর জন্য হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত মঞ্চ।

রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কেন ওই ম্যাচটিকে মেসির জন্য একটি দারুণ বিদায়ী আয়োজন হিসেবে করা হবে না?’

৩৯ বছর বয়সী মেসি জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখনই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের প্রশংসা করে বলেন, দলটি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অত্যন্ত সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর স্প্যানিশ দলের সংবর্ধনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান। তার ভাষায়, শত শত হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানিয়েছে।

তার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল প্রতীকী গুরুত্বে ভরপুর। কারণ সেখানে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তিনি বিশ্বাস করেন, ফুটবল এখনও এই দুই দলের মধ্যে আরেকটি বড় লড়াই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেই ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ আর্জেন্টিনা দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

সাক্ষাৎকারে তিনি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গও তোলেন। ছোটবেলা থেকেই বার্সেলোনার সমর্থক বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে কিছু রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকের মন্তব্য ছিল সেই সময়ের প্রতিফলন, যখন লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুসকেতস, কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে ও জাভিকে নিয়ে গড়া বার্সেলোনা ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সমষ্টিগত পারফরম্যান্স। লামিন ইয়ামাল ও রদ্রির অবদানের কথা স্বীকার করলেও তিনি মনে করেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাও কুবারসিই ছিলেন পুরো বিশ্বকাপের সেরা সেন্টার-ব্যাক। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্পেন জাতীয় দলে বার্সেলোনা থেকে উঠে আসা এত বেশি খেলোয়াড় থাকার কারণ হলো ক্লাব ও জাতীয় দলের ফুটবল দর্শনের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফিনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের মার্চে কাতারের দোহায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়।

পরে ম্যাচটি মাদ্রিদ, বুয়েনস আইরেস কিংবা রোমে আয়োজনের আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), কনমেবল ও উয়েফা নিরপেক্ষ ভেন্যু এবং আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো তারিখে একমত হতে পারেনি। পরে উয়েফা ৩১ মার্চের সম্ভাব্য তারিখও বাতিল করে দিলে ফিনালিসিমা আয়োজনের পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়।

এর কয়েক মাস পর দুই দল আবার মুখোমুখি হয় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে। সে সময় কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেস আর্জেন্টিনাকে ফিনালিসিমার ‘দুইবারের চ্যাম্পিয়ন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে স্পেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ম্যাচটি বাতিল হওয়ার জন্য তাদের ফুটবল ফেডারেশন দায়ী ছিল না।

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে স্পেনের রাষ্ট্রদূত জানান, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তিনি স্পেনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকেও সমর্থন করেছেন। আর্জেন্টিনাকে তিনি নিজের ‘দ্বিতীয় দল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ফাইনালের প্রসঙ্গে তিনি হাস্যরস করে বলেন, ‘ফাইনালে আর কোনো দ্বিধার সুযোগ ছিল না। তখন নিজের দেশকেই সমর্থন করতে হয়েছে।’

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!