আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেকের পর আলোচনায় এসেছেন বোকা জুনিয়র্সের তরুণ প্রতিভা টমাস আরান্ডা। ক্লাব ফুটবল এবং জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সে দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির একটি বিশেষ রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। ক্লাব অভিষেক থেকে জাতীয় দলে অভিষেক পর্যন্ত তার সময় লেগেছে মাত্র ১২৯ দিন।
১৯ বছর বয়সী আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার টমাস আরান্ডা এই বছরের শুরুতেই আলোচনায় আসে। গত শনিবার হন্ডুরাসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার মাঠে নামে। বোকার হয়ে অভিষেকের মাত্র ১২৯ দিনের মাথায় সে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেয়।
আরান্ডা ২৮ জানুয়ারি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলে। এরপর ১২৯ দিন পর, অর্থাৎ ৬ জুন সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করে। একই সময়ে রিভার প্লেটের তরুণ গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলত্রানও জাতীয় দলে সুযোগ পায়। বেলত্রান আরান্ডার চেয়ে চার দিন আগে অভিষেক করে এবং তাকে আর্জেন্টিনার অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে শীর্ষ লিগে প্রথম ম্যাচ খেলেন ১৯৭৬ সালের ২০ অক্টোবর, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। এরপর তিনি জাতীয় দলে অভিষেক করেন ১৯৭৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ক্লাব অভিষেক থেকে জাতীয় দলে যেতে তার সময় লেগেছিল ১৩০ দিন। আরান্ডা সেখানে মারাদোনার চেয়েও ১ দিন কম সময়ে এই কীর্তি গড়েছে।
লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে সময় আরও বেশি লেগেছিল। তিনি বার্সেলোনার হয়ে প্রথম দলে অভিষেক করেন ১৬ অক্টোবর ২০০৪ সালে, লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচে। এরপর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক হয় ১৭ আগস্ট ২০০৫ সালে। এতে তার সময় লাগে ৩০৮ দিন।
আরও পড়ুনঃ বিসিবিতে ইতিহাস গড়ে সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল
আরান্ডার ফুটবল ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগিয়েছে। বছরের শুরুতে সে ছিল মারিয়ানো হেরনের অধীনে বোকার রিজার্ভ দলে। সেখান থেকে দ্রুত তাকে মূল দলে উন্নীত করা হয়। ২৮ জানুয়ারি সে প্রথম দলের হয়ে অভিষেক করে। এরপর মাত্র আট ম্যাচ খেলেই সে তার প্রথম গোল করে। দুই সপ্তাহ পর সে কোপা লিবার্তাদোরেসে অভিষেক করে এবং চিলিতে ইউনিভার্সিদাদ ক্যাথোলিকার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিল। ওই ম্যাচে সে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর থেকেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন। মার্চ মাসে তাকে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলে ডেকে ইজেয়ায় অনুশীলন করানো হয় এবং একটি প্রীতি ম্যাচে খেলানো হয়। শেষ পর্যন্ত বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ২১টি ম্যাচ খেলার পর তাকে জাতীয় দলে ডাক দেওয়া হয়।
ম্যাচের পর আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি তার প্রশংসা করে বলেন, ‘আরান্ডার মধ্যে অস্বাভাবিক প্রতিভা আছে, সে ভালো খেলে, সে বল চায়... সে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে মাঠে ঢুকেছিল, যেন সে নিজের ঘরেই আছে। তখন আমি তাকে বললাম, “চুইংগামটা ফেলে দাও।” কারণ সে অনুশীলনেও চুইংগাম চিবোতে চিবোতে খুব শান্তভাবে অনুশীলন করে, সে নিজেকে খুব স্বচ্ছন্দ বোধ করে, তাই সে আরামে খেলতে পারে এবং খুব ভালো খেলতে পারে। শুধু তাকে সময় দিতে হবে।’

