মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বিধ্বংসী ব্যাটিং ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে ১–১ সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের চার বলে চার ছক্কার ঝড়ে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়ে, আর সেই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রান যোগ করেন তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। তবে এই জুটিতে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডারদের একাধিক ক্যাচ মিস বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সাইফ হাসানের ক্যাচ পাঁচবার ফেলে দেন তারা। তানজিদ–সাইফের ১২০ রানের জুটি টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি হিসেবে জায়গা করে নেয়।
দুর্দান্ত শুরুর পরই হঠাৎ ব্যাটিং ধসে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৩ বলের মধ্যে ১৯ রান যোগ করে হারায় ৫ উইকেট। ৪৫ বলে ৫৫ রান করা সাইফ হাসান সিকান্দার রাজার করা ১৫তম ওভারে বোল্ড হন। সেই ওভারের চার বল পরই রিচার্ড এনগারাভা ৪৪ বলে ৫৮ রান করা তানজিদকে বোল্ড করেন।
এরপর তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ও নুরুল হাসান ক্যাচ দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশের দেড় শ রানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু শেষদিকে ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। ইয়াসির ১২ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ২২ রান করেন। অন্যদিকে মাত্র ১০ বলে চারটি ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন সাইফউদ্দিন।
শেষ ওভারে সাইফউদ্দিন টানা চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান এর আগে টি–টোয়েন্টিতে টানা চার বলে চার ছক্কা মারতে পারেননি। এই কীর্তি তাঁর জন্য আরও বিশেষ হয়ে থাকে, কারণ ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার তাঁর এক ওভারে টানা পাঁচ বলে পাঁচটি ছক্কা মেরেছিলেন। সেই তিক্ত স্মৃতির জবাব যেন ব্যাট হাতেই দিলেন সাইফউদ্দিন।
সাইফউদ্দিন ও ইয়াসিরের শেষ মুহূর্তের ঝড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুনঃ ফাইনালের আগে বড় দুশ্চিন্তায় স্পেন
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই হারায় ৩ উইকেট। এরপর মিল্টন সামুবা ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২৫ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
তবে ১২ বলে ২৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পর রিশাদ হোসেনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন রাজা। এরপর ২০ বলে ১৯ রান করা সামুবাকেও বোল্ড করেন রিশাদ। ৮০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
রায়ান বার্ল ১৯ বলে ২৯ এবং ইভান্স ১৪ বলে ২৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা যথেষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। বল হাতে রিশাদ হোসেন ৪টি এবং মেহেদী হাসান ৩টি উইকেট নেন।
তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে নাহিদ রানার চোট। সাইড স্ট্রেনের সমস্যায় নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ১৩তম ওভারের মাঝপথে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে আর বোলিংয়ে ফিরতে পারেননি।
তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১–১ সমতায়। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি–টোয়েন্টি।

