শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারল না বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮৯ রানেই থামতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ফলে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানের হার নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ।
একসময় অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই। ১০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ১০৩ রান তুলে জয়ের পথে এগিয়ে ছিল দল। শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯৪ রান, আর শেষ পাঁচ ওভারে সমীকরণ নেমে এসেছিল ৫৪ রানে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েকটি উইকেট হারানো এবং শেষ দিকে রান তোলার গতি কমে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য স্পর্শ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুনঃ জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিল সকালে মাঠে নামছে হাইতির বিপক্ষে, একাদশে থাকছেন যারা
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে দারুণ সূচনা এনে দেন তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। মাত্র দুই ওভারে তারা তুলে ফেলেন ৩৩ রান। তানজিদ ৮ বলে ১৭ ও সাইফ ৪ বলে ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন তখন।
চতুর্থ ওভারে এসে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার ম্যাট রেনশ প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৫ বলে ৩০ রান করা তানজিদ বড় শট খেলতে গিয়ে রেনশর হাতেই ক্যাচ তুলে দেন। চার ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪৮ রান।
তবে উইকেটে নেমেই আক্রমণ শুরু করেন সৌম্য সরকার। সাইফকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। পাঁচ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬৫/১। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য। ৯ বলে ১৫ রান করে জাম্পারকে উইকেট দিয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন মিলে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনই ইতিবাচক ব্যাটিং করে রান তোলার গতি ধরে রাখেন। ১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১২২/২। সাইফ তখন ৩৯ ও পারভেজ ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। সেখান থেকে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মধ্য ওভারে। অ্যারন হার্ডির অফ-কাটারে কাভারে দুর্দান্ত ক্যাচ দিয়ে ৩৬ রান করে বিদায় নেন পারভেজ। এরপর বাঁহাতি স্পিনার ডেভিসের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ। ৪২ রান করে ফেরেন তিনি। পরপর দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন লড়াই চালিয়ে গেলেও সমীকরণ কঠিন হয়ে ওঠে। ১৭তম ওভারে শামীমের উইকেট বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও ক্ষীণ করে দেয়। ওই ওভারে মাত্র ২ রান আসে। তখন শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৪২ রান।
শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের লড়াইও বাংলাদেশকে জয়ের পথে নিতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৯ রান তুলে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে বাংলাদেশ বোলাররা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেখালেও শেষ দিকে ঝড় তুলে বড় সংগ্রহ গড়ে সফরকারীরা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন ম্যাট রেনশ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন তিনি। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহকে নিয়ে যান ১৯৬ রানে। তার ইনিংসে ছিল শক্তিশালী সব বাউন্ডারি ও ছক্কার মার।
আরও পড়ুনঃ সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে স্বাগতিক মেক্সিকো
অধিনায়ক মিচেল মার্শ ১৯ বলে ২০ রান করেন। টিম ডেভিড খেলেন ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস। শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ ওভার থেকে ১৮ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া ২০০ ছোঁয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাসুম আহমেদ। চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন তিনি। এছাড়া একটি করে উইকেট পান নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান ও আবদুল গাফফার। তবে নাসুম ছাড়া অন্য বোলাররা তুলনামূলক খরুচে ছিলেন।
ম্যাচের শুরুতে জশ ইংলিসকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য এনে দেন নাসুম। পরে নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি কুপার কনোলি। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফেরান সাইফ হাসান। এরপর মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন মিচেল মার্শকে। কিন্তু মাঝের ও শেষের ওভারগুলোতে রেনশ ও ডেভিডের আগ্রাসী ব্যাটিং বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেয়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের কারণে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, ভালো লড়াই করেও আরেকটি হতাশাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

