৩২ বছর পর আবারও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার নিজেদের মাটিতে পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। গ্রুপ ‘ডি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। দেশের দর্শকেরা ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন বিটিভি, সময় টিভি ও টি স্পোর্টসে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টফি ও বায়োস্কোপেও থাকবে সরাসরি সম্প্রচার।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ৪৮ দলের আসরে স্বাগতিকদের একজন হিসেবে বাড়তি প্রত্যাশার চাপ নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে জয় না পেলে গ্রুপ পর্বের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠতে পারে। যদিও নতুন ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় দলও শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে, তবু জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলে পরের পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। তাই প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহে মরিয়া থাকবে দুই দলই।
আক্রমণে পুলিসিক, চিন্তা রক্ষণে
মরিসিও পচেত্তিনোর দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ নামে পরিচিত এই ফরোয়ার্ডই স্বাগতিকদের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। সুযোগ তৈরি করা থেকে শুরু করে গোল করা—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে গোলখরা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেনেগালের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন পুলিসিক।
আরও পড়ুনঃ মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের শুরু একাদশ চূড়ান্ত
তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন ফোলারিন বালোগান। মাঝমাঠে ওয়েস্টন ম্যাকেনি, টাইলার অ্যাডামস ও মালিক টিলম্যানদের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে বাড়তি গতি ও ভারসাম্য। আক্রমণভাগে প্রতিভার অভাব না থাকলেও রক্ষণভাগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্বাগতিকদের।
সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণে খুব একটা নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র একবার ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে তারা। সর্বশেষ চার ম্যাচে হজম করেছে ১১ গোল। ফলে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও প্যারাগুয়ের পাল্টা আক্রমণ এবং সেট-পিস সামলাতে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে পচেত্তিনোর শিষ্যদের।
গোলরক্ষকের জায়গাটিও আলোচনায় রয়েছে। ম্যাচের আগে পচেত্তিনো পরিষ্কার করেননি, ম্যাট টার্নার নাকি ম্যাট ফ্রিস—কে একাদশে থাকবেন। তবে যিনিই গোলপোস্টে দাঁড়ান না কেন, বিশ্বকাপের চাপ এবং ঘরের মাঠের প্রত্যাশা সামলাতে তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।
প্যারাগুয়ের ভরসা সংগঠিত রক্ষণ
র্যাংকিংয়ে গ্রুপের সবচেয়ে নিচের দল হলেও প্যারাগুয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। দক্ষিণ আমেরিকার কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দলটি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেও হারিয়েছে।
তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা। তবে গোল করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোল মাত্র ১৪টি। এর মধ্যে আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হুলিও এনসিসোর ফিটনেস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। নিকারাগুয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচের আগের দিন কোচ গুস্তাভো আলফারো জানিয়েছেন, এনসিসোর অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি শুরুর একাদশেও থাকতে পারেন।
তবে এনসিসো না খেললে প্যারাগুয়ের আক্রমণের মূল দায়িত্ব পড়বে মিগেল আলমিরন ও দিয়েগো গোমেজের ওপর। বিশেষ করে আলমিরনের গতি ও অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণকে ভোগাতে পারে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত ৯ সাক্ষাতে তারা জিতেছে ৫টি ম্যাচে। প্যারাগুয়ের জয় ২টি, আর ড্র হয়েছে ২টি ম্যাচ। সর্বশেষ তিন দেখাতেই জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে গত নভেম্বরে ২-১ ব্যবধানে জয়ও রয়েছে তাদের।
তবে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ের জন্যও এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ। সেই ২০১০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল দলটি, যেখানে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল।
নজরে থাকবেন যারা
ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক (যুক্তরাষ্ট্র): স্বাগতিকদের আক্রমণের প্রধান ভরসা। তার পারফরম্যান্স দলের বিশ্বকাপ অভিযানে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফোলারিন বালোগান (যুক্তরাষ্ট্র): বক্সের ভেতরে তার উপস্থিতি ও ফিনিশিং প্যারাগুয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখবে।
মিগেল আলমিরন (প্যারাগুয়ে): পাল্টা আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। গতি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
ওয়েস্টন ম্যাকেনি (যুক্তরাষ্ট্র): মাঝমাঠে তার প্রেসিং, দৌড় এবং আক্রমণে যোগ দেওয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
প্রেডিকশন
ঘরের মাঠের সমর্থন, আক্রমণভাগের গভীরতা এবং পুলিসিকদের ব্যক্তিগত মান বিবেচনায় ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণ ও শৃঙ্খল কৌশল স্বাগতিকদের জন্য কাজ কঠিন করে তুলতে পারে। এনসিসো পুরোপুরি ফিট না থাকলে প্যারাগুয়ের আক্রমণও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে।
সম্ভাব্য ফল: যুক্তরাষ্ট্র ২-১ প্যারাগুয়ে।
খেলা দেখবেন যেভাবে
বাংলাদেশের দর্শকেরা ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন বিটিভি, সময় টিভি ও টি স্পোর্টস-এ। পাশাপাশি অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফি এবং বায়োস্কোপ-এও ম্যাচটির সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাবে। ম্যাচ শুরু হবে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৭টায়।

