তাহলে কি আর্সেনালেই যাচ্ছেন রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

ভিনিসিয়ুস
ভিনিসিয়ুস |ছবি: সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আর্সেনালে যোগ দিতে পারেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এরই মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। চুক্তি নবায়ন নিয়ে তৈরি অচলাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম দামে তাঁকে দলে নেওয়ার সুযোগ দেখছে আর্সেনাল।

রিয়ালের হয়ে অনুশীলনে ফিরলেও ভিনিসিয়ুস এখনো ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেননি। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে থাকার কথা তাঁর। তবে নতুন চুক্তির আর্থিক শর্ত, বিশেষ করে একটি বড় অঙ্কের ‘নবায়ন বোনাস’ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে কয়েক মাস ধরে পর্দার আড়ালে কাজ করছে আর্সেনাল। ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া বার্তা সরাসরি ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

আর্সেনাল ভিনিসিয়ুসকে জানিয়েছে, লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দিলে তাঁকে দলের প্রধান তারকাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জেতা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলা একটি দলের মধ্যমণি হওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। সেই ফাইনালে পিএসজির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল আর্সেনাল।

ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের বর্তমান টানাপোড়েনের মূল কারণ অর্থনৈতিক। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিয়াল মাদ্রিদের জেনারেল ম্যানেজার হোসে আনহেল সানচেজ ও প্রধান স্কাউট হুনি কালাফাতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ভিনিসিয়ুস।

সেই বৈঠকে রিয়াল তাঁকে বছরে করমুক্ত দুই কোটি ইউরো বেতনের প্রস্তাব দেয়। তবে ভিনিসিয়ুস ও তাঁর প্রতিনিধিরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুস প্রায় তিন কোটি ইউরোর কাছাকাছি একটি আর্থিক প্যাকেজ চাইছেন। এই প্যাকেজের মধ্যে মূল বেতন ও পারফরম্যান্স বোনাসের পাশাপাশি বড় অঙ্কের একটি ‘নবায়ন বোনাস’ও রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়কে চুক্তি নবায়নের জন্য এমন বোনাস দেওয়ার নজির নেই।

ভিনিসিয়ুসের ঘনিষ্ঠদের মতে, রিয়াল বেতনসীমার কারণে তাঁর মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে রাজি নয়। তাই তাঁর আয় বাড়ানোর জন্য নবায়ন বোনাসই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এই আলোচনায় কিলিয়ান এমবাপ্পের আর্থিক প্যাকেজকেও উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিরা। এমবাপ্পের বেতন ভিনিসিয়ুসের প্রস্তাবিত বেতনের কাছাকাছি হলেও পিএসজি থেকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে রিয়ালে যোগ দেওয়ার সময় তিনি বড় অঙ্কের ‘সাইনিং বোনাস’ পেয়েছিলেন।

তবে রিয়াল শুরু থেকেই ভিনিসিয়ুসের নবায়ন বোনাসের দাবির বিরোধিতা করছে। ক্লাবটির আশঙ্কা, একজন খেলোয়াড়কে এই সুবিধা দিলে ভবিষ্যতে অন্য খেলোয়াড়েরাও চুক্তি নবায়নের সময় একই ধরনের বোনাস দাবি করতে পারেন।

অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস ও তাঁর প্রতিনিধিরাও নিজেদের দাবিতে পুরোপুরি অনড় নন। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলে তাঁরা আর্থিক দাবি কিছুটা কমাতে পারেন।

বর্তমান এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের দলবদল পরিকল্পনা নতুন গুঞ্জন তৈরি করেছে। জার্মান ক্লাব লাইপজিগ থেকে ইয়ান দিয়োমান্দেকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

আর্সেনাল-ঘনিষ্ঠদের ধারণা, ভিনিসিয়ুস চলে গেলে তাঁর বিকল্প হিসেবে দিয়োমান্দেকে প্রস্তুত রাখতে চায় রিয়াল। তবে দিয়োমান্দের দলবদল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই এই পরিকল্পনার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভিনিসিয়ুসের সামনে এখন মূলত তিনটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে পারেন, বর্তমান চুক্তির শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন অথবা এখনই আর্সেনালে যোগ দিতে পারেন।

রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি করলে তাঁকে বেতন ও বোনাসের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। অন্যদিকে বর্তমান চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দল ছাড়তে পারবেন। তখন তাঁকে দলে নিতে কোনো ক্লাবকে রিয়ালকে দলবদল ফি দিতে হবে না।

রিয়ালের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভিনিসিয়ুস নতুন চুক্তিতে রাজি না হলে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডকে দলবদল ফি ছাড়াই হারাতে পারে ক্লাবটি।

এ ছাড়া সামনের মৌসুমে ভিনিসিয়ুসকে বড় অঙ্কের লয়্যালটি বোনাসও দিতে হবে রিয়ালকে। সব মিলিয়ে চুক্তির শেষ সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ওপর ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।

এই অবস্থায় আর্সেনাল মনে করছে, রিয়াল হয়তো কম দামে ভিনিসিয়ুসকে ছেড়ে দিতে রাজি হবে। এখন তাঁকে বিক্রি করলে স্প্যানিশ ক্লাবটি অন্তত বড় অঙ্কের দলবদল ফি পাবে। কিন্তু চুক্তি শেষ হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না।

ভিনিসিয়ুসের দলবদল নিয়ে জটিলতার শুরু অবশ্য কয়েক বছর আগে। ২০১৮ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি ইউরোতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

২০২২ সালে প্রথমবার রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের সময় তাঁকে কয়েকটি বিকল্প দিয়েছিল ক্লাবটি। রিয়াল চেয়েছিল, তিনি ২০২৭, ২০২৮ অথবা ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করুন।

আরও পড়ুনঃ স্পেনে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোটি টাকার অনুদান দিলেন মেসি

ভিনিসিয়ুসের সতীর্থ এদেরসন মিলিতাও ও রদ্রিগো ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছিলেন। তবে ভিনিসিয়ুস তুলনামূলক কম মেয়াদের চুক্তি বেছে নেন। তিনি ২০২৭ সাল পর্যন্ত রিয়ালে থাকার চুক্তি করেন।

সে সময় ভিনিসিয়ুস বিশ্বাস করতেন, অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। এরপর আরও ভালো আর্থিক শর্তে নতুন চুক্তি করার সুযোগ পাবেন বলেও মনে করেছিলেন তিনি।

তাঁর সেই আত্মবিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হয়নি। ২০২১-২২ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে রিয়ালকে শিরোপা জেতান ভিনিসিয়ুস। এরপর তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন।

২০২৪ সালে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন তিনি। বেতন ও বিভিন্ন পারফরম্যান্স বোনাস মিলিয়ে রিয়ালে তাঁর বর্তমান বার্ষিক করমুক্ত আয় প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ ইউরো।

তবে মাঠের সাফল্যের সঙ্গে তাঁর আর্থিক প্রত্যাশাও বেড়েছে। নিজের বর্তমান অবস্থান, পারফরম্যান্স এবং দলের জন্য অবদানের ভিত্তিতে তিনি রিয়ালের সর্বোচ্চ আয় করা খেলোয়াড়দের সমপর্যায়ের প্যাকেজ চাইছেন।

রিয়াল ও ভিনিসিয়ুসের মধ্যে আলোচনা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দুই পক্ষই সমঝোতার সুযোগ খোলা রেখেছে। তবে আর্সেনালের সক্রিয় আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রিয়ালে থেকে নতুন চুক্তি করবেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করবেন, নাকি এখনই আর্সেনালে চলে যাবেন—ভিনিসিয়ুসকে এখন এই তিন বিকল্পের একটি বেছে নিতে হবে। তাঁর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে দলবদল বাজারের সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর একটির ভবিষ্যৎ।, সাবহেড দিবে না, সরল ভাষায় অ্যাক্টিভ ভয়েসে লিখ, নিউজ সংক্ষেপ করবে না

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!