চীনের প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ খুচরা ই-কমার্স খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) খাতে অধিক গুরুত্ব দেওয়ায় চাপে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে পরিচালিত দারাজ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলিবাবা ২০১৮ সালে দারাজ গ্রুপ অধিগ্রহণের পর বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমিয়ে ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে দারাজ বাংলাদেশের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: যে পাঁচটি তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবক্সে ইনপুট দেবেন না
জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দারাজ বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিস স্পেস কমানো, বিভিন্ন হাব ও সর্টিং সেন্টার বন্ধ করা এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের একটি অংশের দাবি, চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটির জনবল উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে চাকরির অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে কিছু কর্মীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধে বিলম্বের অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে দারাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু মার্চেন্ট ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পাওনা অর্থ পরিশোধ নিয়েও অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, আলিবাবার পক্ষ থেকে দারাজকে নিজেদের আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘ব্রেক-ইভেন’ বা লাভ-ক্ষতির সমতা অর্জন করতে না পারলে অতিরিক্ত ভর্তুকি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: তথ্য পাচার বন্ধ করতে চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড
তবে দারাজ বাংলাদেশের সম্ভাব্য কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দারাজ জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্য ভিত্তিহীন এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত হলে প্রতিষ্ঠান নিজেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে দারাজের এখনও উল্লেখযোগ্য গ্রাহকভিত্তি ও ব্র্যান্ড মূল্য রয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ কার্যক্রম বন্ধের পরিবর্তে পুনর্গঠন, অংশীদারিত্ব, একীভূতকরণ বা নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজার মতো বিকল্প পথও সামনে থাকতে পারে।

