নিত্যদিনের প্রয়োজনেই ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে পেশাগত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা আমরা স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করি। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশলে স্মার্টফোনের তথ্য চুরির চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সাইবার হামলার পেছনে হ্যাকারদের দক্ষতার চেয়ে ব্যবহারকারীর সামান্য অসতর্কতাই বড় কারণ। তবে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ অনুসরণ করলে ডেটা অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে বেশি রিচ ও ভিউ পাওয়ার কার্যকরী টিপস!
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবহার করুন
স্মার্টফোনের ডেটা সুরক্ষার প্রথম ধাপ একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। সহজ সংখ্যা বা জন্ম তারিখের পরিবর্তে অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়ে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি চালু রাখলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
দ্বি-স্তরীয় যাচাইকরণ (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু করুন
ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যাংকিং অ্যাপসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অতিরিক্ত যাচাইকরণ ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না।
সন্দেহজনক লিংক ও বার্তা এড়িয়ে চলুন
ফিশিং আক্রমণ বর্তমানে তথ্য চুরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অচেনা নম্বর, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো কোনও লিংকে ক্লিক করার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। অচেনা লিংকে ব্যক্তিগত বা আর্থিক সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
আরও পড়ুন: ইউটিউব থেকে ঘরে বসে আয় করবেন যে কৌশলে
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের আপডেট নোটিফিকেশন অনেক সময় আমরা উপেক্ষা করি। অথচ এসব আপডেট বিভিন্ন ভাইরাস, ম্যালওয়্যার ও সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করুন।
শুধু বিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন
অপরিচিত ওয়েবসাইট বা থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা ঝুঁকিপূর্ণ। সবসময় অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করুন। ইনস্টল করার আগে অ্যাপের রিভিউ, ডেভেলপারের পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো যাচাই করে নিন।
অ্যাপের অনুমতি (পারমিশন) নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেক অ্যাপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডেটা ব্যবহারের অনুমতি চায়। উদাহরণ হিসেবে, একটি সাধারণ ছবি সম্পাদনার অ্যাপের অবস্থান (লোকেশন), কনট্যাক্টস বা মাইক্রোফোন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবু কিছু অ্যাপ এসব অনুমতি চেয়ে থাকে।
তাই কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার আগে চাওয়া অনুমতিগুলো সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করুন। ফোনের Settings > Apps > Permissions অপশনে গিয়ে নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো বন্ধ রাখুন।
আরও পড়ুন: তথ্য পাচার বন্ধ করতে চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন
স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়া, হ্যাক হওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ডেটা হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই ক্লাউড স্টোরেজ বা নিরাপদ ব্যাকআপ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো সম্ভব।
একটি অসতর্ক ক্লিক, দুর্বল পাসওয়ার্ড বা ফিশিং লিংক মুহূর্তেই আপনার আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। স্মার্টফোনের ডেটার নিরাপত্তা আপনার হাতেই। তাই সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে নিজের তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রাখুন।

