সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আপনি কেন ব্যবহার করেন? উত্তরটি খুঁজতে আপনাকে সাহায্য করছি। একদম শুরুর দিকে আপনি চলে যান, সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু হওয়ার মূল উদ্দ্যেশ্য ছিল বন্ধু তৈরি করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। একসময় এটি ছিল বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা নিজের জীবনের ছোটখাটো মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার জায়গা। কিন্তু বর্তমানে এটি আর বন্ধুদের খোঁজ নেওয়ার সাধারণ মাধ্যম নেই।
এটি পরিণত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত শর্ট-ভিডিও বিনোদনের একটি বিশাল হাবে। মানুষ এখন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বন্ধুদের চেয়ে অপরিচিত পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিডিও দেখে বেশি সময় কাটাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইউটিউব থেকে ঘরে বসে আয় করবেন যে কৌশলে
পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাবলিক পোস্ট করার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। এ বছরের অফিশিয়াল ‘ব্যারোমিটার ডু নিউমেরিক’ অনুযায়ী, ৪৯ শতাংশ ব্যবহারকারী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই কম সক্রিয়। অফকম-এর এক রিপোর্টে দেখা গেছে, সক্রিয়ভাবে পোস্ট করা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬১ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশতে নেমে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ব্যবধান সবচেয়ে প্রকট। তাদের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যবহারকারী নিয়মিত পোস্ট করে। যেখানে ৭৪ শতাংশ শুধু নীরবে কনটেন্ট স্ক্রল করে যায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ইন্টারনেটে নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট আজীবন থেকে যাওয়ার ভয়, সমালোচনার ঝুঁকি ও পেশাদার ক্রিয়েটরদের জাঁকালো কনটেন্টের পাশে নিজের সাধারণ পোস্টকে ‘তুচ্ছ’ মনে করার মানসিকতা থেকে মানুষ পাবলিক প্ল্যাটফর্মে নিজের জীবনের গল্প বলা বন্ধ করে দিচ্ছে।
কী করছে ব্যবহারকারীরা
কী মনে হচ্ছে? মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে? বিষয়টা একদমই তেমন নয়। মানুষ এখন ইনস্টাগ্রাম কিংবা ফেসবুক ফিডে পোস্ট না করে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপ কিংবা স্ন্যাপচ্যাটের প্রাইভেট গ্রুপ বেছে নিচ্ছে। এই ব্যক্তিগত অথবা ইনটিমেট স্পেসগুলোতে ইনফ্লুয়েন্সারদের জাঁকজমক কিংবা বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা নেই। তরুণেরা টিকটকে কিছু পোস্ট করলেও তা মূলত বিভিন্ন ফানি প্যারোডি বা রিমিক্স, যেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কোনো ছোঁয়া থাকে না।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে বেশি রিচ ও ভিউ পাওয়ার কার্যকরী টিপস!
ব্যবসায় মন্দা নয়, হচ্ছে রেকর্ড আয়
মজার বিষয় হলো, এতে মেটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা নিষ্ক্রিয় দর্শক বা ‘টেলিভিশন’ গ্রাহকের মতো হয়ে গেলেও প্ল্যাটফর্মগুলোর রেকর্ড আয় হচ্ছে। এ বছর বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের রাজস্ব ৩১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বড় জয় ‘মেটা’র। এ বছর তাদের বিজ্ঞাপন বাবদ আয় ২৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে, যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুগলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
অ্যালগরিদমের হাতে রিমোট কন্ট্রোল
টিকটকের দেখানো পথ ধরে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এখন একধরনের এআই রেকমেন্ডেশন সিস্টেমে চলছে। আপনি কাকে ফলো করছেন বা কে আপনার বন্ধু, এখন তা আর তোয়াক্কা করা হয় না। মেশিন বুঝতে চেষ্টা করে আপনার পছন্দ কী এবং সেই অনুযায়ী আপনার ফিড সাজায়।
এর ফলে স্থানীয় ছোট ছোট ব্যবসাগুলোর টিকে থাকার লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন শুধু ব্যবসা চালালেই হচ্ছে না, মালিকদের নিজেদের ট্রেন্ড স্পটার, ভিডিও এডিটর বা উপস্থাপক বনে যেতে হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

