ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে বিএনপি নেতার কার্যালয়ের সামনে মারধরের সময় বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তার দাদা। মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান ওই বৃদ্ধ।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট–সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবী হোসেন (৭০) হাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, ঘটনাটি গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য ও স্থানীয় উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মছুল ইসলাম ওরফে ফারুকের কার্যালয়ের সামনে ঘটে। গত বছর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন: আগস্ট-সেপ্টেম্বর দুই মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রবিন মিয়ার একটি মুঠোফোন চুরি হয়। ওই চুরির অভিযোগ আনা হয় নিহত নবী হোসেনের নাতি মো. রানা (২০)-এর বিরুদ্ধে। তিন দিন আগে এলাকায় ফেরেন রানা। রবিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যার পর তাকে আটক করে হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট এলাকায় বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে বেঁধে রাখা হয়।
পরে শামছুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে সালিশ বসিয়ে রানাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় খবর পেয়ে রানার দাদা নবী হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে নাতিকে মারধর না করার অনুরোধ করলে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নবী হোসেন সড়কে পড়ে গেলে তার বুকে কিল-ঘুষি মারা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে স্বজনেরা তাকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
খবর পেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযুক্তদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘অভিযুক্ত রানাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন এবং অভিযুক্ত রানার দাদা মোহাম্মদ নবী হোসেনকে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবগত ছিলাম না।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘ঘটনার দিন কিংবা তার আগে বা পরে কোনো দিনই আমার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী অফিসে কোনো প্রকার বিচার-সালিশ হয়নি এবং আমি কোনো বিচার-সালিশ করিনি।’
আরও পড়ুন: ওসমান হাদীকে আজীবন মুখপাত্র করে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কমিটি
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর চেম্বারের সামনে মো. রানাকে বেঁধে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় তার দাদা গিয়ে বলেন, ‘এভাবে আস্তে আস্তে না মাইরা, একবারে মাইরা ফালাও।’ এ কথা বলার পরই উপস্থিত ব্যক্তিরা ওই বৃদ্ধের ওপর চড়াও হন। পরে কিল-ঘুষিতে আহত হলে তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ জড়িত অন্যদের ধরতে আমরা অভিযান চালাই। তবে সবাই পালিয়ে গেছে।’

