সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক আইনজীবীর করা রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আইনজীবী শরিফ সরকার রিটটি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের টেবিল বা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন এবং পতাকা রেখে চেয়ারের সামনে বসছেন। তার দাবি, চেয়ার বা টেবিলের পাশে এভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন আইনবহির্ভূত।
আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা বিধিমালায় ১৫ ধরনের ব্যক্তির দপ্তর, বাসস্থান ও গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন অধীনস্থ অফিস, বিশেষ করে সচিবালয়ের অধীনস্থ অফিস, করপোরেশন ও কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারের পেছনে নিয়মিত জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন। আইনে এ ধরনের প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়নি।
আইনজীবী আরও বলেন, পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ভবনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হলে তা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রদর্শন করতে হবে। জাতীয় পতাকা ‘ফ্রি-ফ্লোটিং’ বা উড়ন্ত অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু কর্মকর্তাদের চেয়ারের পেছনে যেভাবে পতাকা প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেখানে পতাকাটি বাঁকানো বা কার্ভ করে পেছনে রাখা হচ্ছে এবং সামনে বসা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, জাতীয় পতাকার এ ধরনের ব্যবহার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
আরও পড়ুন: এসএসসি উত্তীর্ণদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মাসে ২৫০০ টাকা করে দেবে ২ বছর, আবেদন যেভাবে
একইসঙ্গে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক রাখতে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন অফিস কক্ষে যেভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

