চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন নিয়ে চীনের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে চীনে রয়েছেন। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আপনারা দেখবেন, সৌরবিদ্যুৎ খাত নিয়ে একটি বড় চুক্তি হবে।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপটির আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে বিএনপি সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে চিফ হুইপ হিসেবে তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশে টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশের সার্বিক কল্যাণ এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি সুদৃঢ় করতেও এই খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বৈষম্য দূর করে শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
চিফ হুইপ বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সব সরকারি ভবনের ছাদ এবং শিল্পকারখানাকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগণের উপকার এবং সেচ প্রকল্পের ব্যয় কমাতে সব ধরনের পাওয়ার পাম্প ও টিউবওয়েলকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের গণজোয়ার: এর পরে কী এবং কারা অনুসরণ করছে?’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন পাকিস্তানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সংস্থা ‘রিনিউয়েবলস ফার্স্ট’-এর প্রধান কর্মসূচি ও উদ্যোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ বাসিত ঘোরি।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা মূলত জাতীয় গ্রিডের বাইরে ব্যক্তি উদ্যোগে ঘটেছে। এই পরিবর্তন কোনো নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ ছিল না। শহর ও গ্রাম, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার আবাসিক, শিল্প ও কৃষি খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।
আরও পড়ুন: সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি এমপির
বাসিত ঘোরি জানান, পাকিস্তানে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং সরকারি সহযোগিতা এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানে এ খাতে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশের সঙ্গে বড় পার্থক্য হলো, এই অর্থের বেশির ভাগ ব্যাংক থেকে আসেনি। দেশটির মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ জনগণ নিজস্ব অর্থায়নে এই বিনিয়োগ করেছে। ফলে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের পরিবর্তন: জাতীয় গ্রিডের বাইরে থেকে গ্রিডের ভেতরে, পারিবারিক সোলার থেকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ’ শীর্ষক আরেকটি উপস্থাপনা করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আতিকুজ্জামান সাজিদ।
আরও পড়ুন: আস্থা ফেরাতে পরিসংখ্যানগত তথ্য আরও সহজলভ্য করছে সরকার
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা সাধারণত ৪ থেকে ৫ শতাংশ তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে গত এক থেকে দুই বছরে দেশে নেট মিটারিং ব্যবস্থায় ৩০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পরিমাণে ছোট হলেও এটি নীরবে শিল্পকারখানা ও আবাসিক পর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরিবহন খাতেও এর ব্যবহার বাড়বে এবং জাতীয় পরিসংখ্যানে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।
আতিকুজ্জামান বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম পার্থক্য অর্থায়নের মানসিকতায়। বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগ্রহ কম। এখানে মানুষ ব্যাংকনির্ভর হলেও পাকিস্তানে বেশির ভাগ বিনিয়োগ হয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শেখার সুযোগ রয়েছে।

