দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ভিড়েছে ৫টি জাহাজ। মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার টন ডিজেল ও অকটেন বহনকারী এসব জাহাজের মধ্যে দুটি থেকে ইতোমধ্যে খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের ডলফিন জেটিতে নোঙর করা ‘এমটি ওকট্রি’ ও ‘এমটি কেপ বনি’ জাহাজ থেকে সোমবার সকাল থেকেই জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। ‘এমটি ওকট্রি’তে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং ‘এমটি কেপ বনি’তে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। ফলে এ দুটি জাহাজ থেকে মোট প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল খালাস করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন
এদিকে, বন্দরের বহির্নোঙরে আরও তিনটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় আছে। ‘এমটি লিয়ান সং হু’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল, ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’তে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং ‘এমটি নাভে সিয়েলো’তে রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুতগতিতে খালাস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় এসব জ্বালানি দ্রুত দেশের বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: প্রথম ১৯ দিনেই দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল প্রবাসী আয়
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খালাস শেষে ধাপে ধাপে জ্বালানিগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। এতে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি মজুত আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এছাড়া, আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। সেগুলোও শিগগিরই বন্দরে নোঙর করে খালাস কার্যক্রমে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধারাবাহিক এ সরবরাহ ব্যবস্থার ফলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে।

