দেশের ৪০ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার
৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার|ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ল্যাপটপ বিতরণের সময়সূচি, যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত এবং বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিতে মাস্টার্স, আবেদন শেষ ২৪ নভেম্বর

অন্যদিকে, দেশের ৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে বৃত্তির পরিমাণ, আবেদনের যোগ্যতা ও অর্থ বিতরণের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রকৃত শিখনফল ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে নিয়মিত মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক মূল্যায়নের পাশাপাশি তিন বা ছয় মাস অন্তর শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ের প্রস্তাব রয়েছে। কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষা খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে। এটি আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণকে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত মাস্টার্স করার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ পরিশোধে বিদ্যমান সংকট কমানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এ খাতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গড়ে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার বিষয়টিও এতে রয়েছে।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম শুরুর তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করা নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করা প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক জটিলতা ও ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে শিক্ষকদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব উঠে আসে। কমিটির সদস্যদের মতে, সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো যেন বারবার পরিবর্তিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক সূচকে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট ও বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চালু করা জরুরি।

ল্যাপটপ বিতরণ, ছাত্রীদের বৃত্তি, শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন, যোগ্যতার শর্ত এবং বিস্তারিত নিয়মাবলি জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!