যেভাবে ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যার আসামি

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

আটক জিয়াউর রহমান হত্যার আসামি মোজাফফর
আটক জিয়াউর রহমান হত্যার আসামি মোজাফফর|ছবি: সংগৃহীত

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান মোজাফফর হোসেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভুয়া নাম-পরিচয়ে দীর্ঘ সাড়ে চার দশক কাটান। প্রথম কয়েক বছর বাংলাদেশে গোপনে অবস্থান করার পর ১৯৯৭-৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতে পালিয়ে ছিলেন বলেও জানা যায়।

সূত্র জানায়, ভারতে অবস্থানকালে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে একাধিকবার অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি নিয়মিত বাসস্থান পরিবর্তন করতেন এবং কোথাও দীর্ঘদিন অবস্থান করতেন না।

ডিবির একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের হাতে শুরুতে ছিল মাত্র দুটি তথ্য—মোজাফফর বনানী ডিওএইচএসের একটি বাসায় থাকেন এবং তার নাকের নিচে একটি বড় তিল রয়েছে। পাশাপাশি জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিতে কর্মরত। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালিয়ে সম্ভাব্য বাসা শনাক্ত করে গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন: বনানী থেকে আটক জিয়া হত্যা মামলার অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর

বুধবার গভীর রাতে ছদ্মবেশে ওই বাসায় গিয়ে নিজেদের টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয় দিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন ডিবির সদস্যরা। দরজা খুলে এক বৃদ্ধ সামনে এলে তার পরিচয় জানতে চান তারা। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘মোজাফফর’ বলে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দারা তার নাকের নিচে থাকা তিল দেখে পরিচয় নিশ্চিত হন। এরপর তাকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!