বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিনজনকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এক দশক পর একনেকে উঠলেও অনুমোদন পায়নি চীনা ইকোনমিক জোন
নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম জানান, বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে নাঈম ফোন করে জানান যে পুলিশ তাকে আটক করে মারধর করছে। খবর পেয়ে তিনি খুলশী থানায় গেলে ডিউটি অফিসারের কাছ থেকেও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন সদস্য গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করেন।
নাঈম হাসানের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বরং এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন এবং সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের শুরু একাদশ চূড়ান্ত
নাঈম আরও দাবি করেন, খুলশী থানায় নেওয়ার পরও তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। ওসির সামনেও কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বারবার নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করেন। পরে বিভিন্ন পরিচিতজন ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে থানার ওসির কাছে ফোন যেতে শুরু করলে পুলিশ তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং দুঃখ প্রকাশ করে তাকে ছেড়ে দেয়।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে থেকে কিছু জানাননি। থানায় আনার পরই তিনি জানতে পারেন যে আটক ব্যক্তি জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পরে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং সসম্মানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে থাকা আরও এক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, একটি অটোরিকশার বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে তথ্যের সত্যতা, অভিযানের বৈধতা এবং পুলিশের সদস্যরা নিয়ম অনুসরণ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু
তিনি বলেন, “পুলিশি অভিযানের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ভুলত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, নাঈম হাসান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন নিয়মিত সদস্য। জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে আসছেন তিনি।

