নবম পে-স্কেলের অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে|ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াতে নবম জাতীয় বেতনস্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাত নির্দেশনা

নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

তবে বেতনস্কেলের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার একযোগে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন না করে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন: নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে আগে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

সরকারের মতে, পর্যায়ক্রমে বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রশমিত করা সম্ভব হবে।

‘এক গ্রেড এক পেনশন’ চালু হবে পর্যায়ক্রমে

নতুন বেতনস্কেলে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় এটি একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে না।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর পরিবর্তে বর্তমানে পেনশনভোগীদের নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

আরও পড়ুন: ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি: সংসদীয় কমিটি

৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ।

ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে সুবিধা পাবেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে এ ভাতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। এত দিন শুধু ৫ম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী এ ভাতা পাবেন।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

আরও পড়ুন: যেভাবে ১৬৪৩ শিশুর প্রাণ বাঁচালেন নেপালের শিক্ষক

এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্কের (এমটিবিএফ) আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। সেটিও জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এতে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!