রাজধানীর পল্লবীতে একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগম (প্রায় ৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে একাকী বসবাস করছিলেন। রবিবার (১ জুন) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের ওই বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসাটি নূরজাহান বেগমের মেয়ের। তার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। নূরজাহান বেগমের এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তারা পরিবার নিয়ে অন্যত্র বসবাস করতেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটের শিক্ষক ছেলে ঘটনাস্থলে এলেও যুগ্ম সচিব ছেলে উপস্থিত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পর সোমবার (২ জুন) রাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি এক ফেসবুক পোস্টে দুই ছেলের পরিচয় প্রকাশ করেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
সরকারি চাকরিজীবনে তিনি পরিকল্পনা কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই স্কুল অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে এমপিপি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
অন্য ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি বেসরকারি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
সামির তথ্যমতে, আশিকুর রহমান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি এসএসসি ও এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করেন। পরে বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করেন এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে কম্পিউটিং সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
নূরজাহান বেগমের মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা মিরপুরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এছাড়া তার আরেক ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। তার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

