বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। প্রকল্পের মেয়াদ কেন বারবার বাড়ানো হচ্ছে, তা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। একনেক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভায় ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: অনার্স কোর্স থেকে বাংলা-দর্শন-ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকল্প ব্যয় কমানোরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ অস্বাভাবিক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডাব্লিউডি)সহ বিভিন্ন সংস্থার রেট সিডিউলে অসামঞ্জস্য থাকায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত রেট সিডিউল একীভূত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় সড়কের পাশের গাছপালা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অনেক গাছ ছিল উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ঢাকা-বগুড়া সড়কেও গাছের সংখ্যা কমে গেছে। সব জায়গাকে শহরে রূপান্তরের পক্ষপাতী নন জানিয়ে তিনি গ্রামীণ পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর জোর দেন। সড়কের পাশে ইউক্যালিপটাস ও ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে গাছ কাটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: একনেকে উঠছে ১৩ প্রকল্প
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’, ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন’, ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ’, ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’, ‘দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন’ এবং ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

