মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল এসেছে। অস্বাভাবিক এ বিল হাতে পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাতেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।
বিলের কপিতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। তবে এর বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ধরা হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যোগ করা হয়েছে। ফলে সর্বমোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা না হলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের ১০ স্কলারশিপ
অথচ প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে গ্রাহকের বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুল যুক্ত হলে সেই পরিমাণ দাঁড়াবে ২ হাজার ৫৬ টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয়। এতে বিল পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’।
মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে শত শত কোটি টাকার এমন বিল কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে গ্রাহক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: কলেজ পরিবর্তন করতে চাইলে বাতিল করতে হবে প্রথম ধাপের ভর্তি
এ বিষয়ে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন হওয়ার কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিং মিসটেকের কারণে এমনটি হয়েছে। আজ বিলটি সংশোধন করে দেয়া হয়েছে উক্ত গ্রাহক বিলও পরিশোধ করেছেন। এ ভুলের সাথে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

