দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ‘টাকার মেশিন’ হিসেবে না দেখে তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে প্রবাসীদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন, দেশে তাদের সম্পত্তি রক্ষা এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবও তিনি দিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে আনা একটি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আরও পড়ুন: বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা, এনবিআরে বাড়তি চাপ
প্রবাসীদের সম্মানজনকভাবে সম্বোধনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের আমরা ‘শ্রমিক’ বলে থাকি, কিন্তু এই শব্দ পরিবর্তন করা উচিত। তাদের জন্য এমন একটি সম্মানসূচক পরিচয় দরকার, যা তাদের মর্যাদা প্রকাশ করবে এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দেবে। মানুষ রপ্তানির ধারণা থেকে বের হয়ে বিষয়টিকে সম্মানজনক অবস্থানে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেধা পাচার রোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক রেমিট্যান্স যেমন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্সও সমান জরুরি। উন্নত দেশগুলো তাদের মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে নানা প্রণোদনা দেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের চিকিৎসক দেবী শেঠির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মেধাবীরাও মূলত সম্মান ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ চান। তাই আর্থিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্সের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: এক দশক পর একনেকে উঠলেও অনুমোদন পায়নি চীনা ইকোনমিক জোন
প্রবাসীদের দেশে ফিরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অনেক সময় তাদের আত্মীয়স্বজনই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক জটিলতায় তারা আরও ভোগান্তির মুখে পড়েন। প্রবাসীদের অনেকেই দেশে ফিরে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের সরকারের রেখে যাওয়া জটিলতা দূর করতে হবে। প্রবাসীদের ‘টাকার মেশিন’ হিসেবে না দেখে তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীদের ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তরের সময় এনআইডির সঙ্গে নাম বা বয়সের সামান্য অসামঞ্জস্য থাকলেও অনেক প্রবাসী বিদেশে আইনি জটিলতায় পড়ছেন। এতে কেউ কেউ অবৈধ অবস্থায় চলে যাচ্ছেন। বিদেশে বসেই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

