দেশের সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা জনবল সংকট নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শূন্য পদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন অফিসে অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি সরকারি জনবল পরিস্থিতি ও নিয়োগ কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য, যা সরকারি সেবার কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট
তিনি বলেন, সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাদের অধীন শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য, চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো রিকুইজিশনের তথ্য দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব পদে এখনও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, সেসব পদে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি এবং শূন্য পদ পূরণে সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ হলে একদিকে যেমন জনবল সংকট কমবে, অন্যদিকে সরকারি সেবার মান ও কার্যক্রমের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

