ব্যয় কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। এটি প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। এই ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে এক্সবক্স গেমিং বিভাগে, যেখানে বড় ধরনের পুনর্গঠন শুরু হয়েছে।
মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সবক্স বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে।
আরও পড়ুন: এআই থেকে সেরা উত্তর পেতে ৬টি কার্যকর প্রম্পটিং কৌশল
সম্প্রতি এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া আশা শর্মাও কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, এটি এক্সবক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ১ হাজার ৬০০ কর্মী চাকরি হারাবেন।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সবক্সের চারটি গেম ডেভেলপমেন্ট স্টুডিও—কম্পালশন গেমস, ডাবল ফাইন প্রোডাকশন্স, নিনজা থিওরি এবং আনডেড ল্যাবকে মূল প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা বা স্পিন-অফ করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় আশা শর্মা বলেন, এক্সবক্সকে ছোট করার জন্য নয়, বরং আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ভাষায়, ইতিহাসে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ রয়েছে যারা শুধু টিকে থাকাকেই যথেষ্ট মনে করেছিল। মাইক্রোসফট সেই ভুল করতে চায় না।
আরও পড়ুন: ক্যাশলেস ইকোনমির নতুন অধ্যায় ‘বাংলা কিউআর’
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদার কথা উল্লেখ করেন অ্যামি কোলম্যান। তিনি বলেন, শিল্পে পরিবর্তন আসবে কি না, তা কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের কতটা মানিয়ে নেওয়া হবে, সেটি প্রতিষ্ঠানই ঠিক করে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জায়গায় এআইকে বসানো হবে না। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমন সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন বৈশ্বিক গেমিং শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই সংকটের মধ্যে রয়েছে। গত কয়েক বছরে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ধাক্কা থেকে অনেক স্টুডিও এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর আগে ২০২৪ সালেও এক্সবক্স ২ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছিল। পাশাপাশি ‘কল অব ডিউটি’ নির্মাতা অ্যাক্টিভিশন-ব্লিজার্ড অধিগ্রহণের আগে কেনা চারটি স্টুডিওও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে বেশি রিচ ও ভিউ পাওয়ার কার্যকরী টিপস!
এর এক বছর পর বিলিয়ন ডলারের এআই প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত দেয় মাইক্রোসফট। প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাইক্রোসফটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পুরোনো গেম কনসোল ও অন্যান্য যন্ত্রের দামও বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আশা শর্মা বলেন, এই ছাঁটাই নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। তবে এক্সবক্সের কনটেন্ট পোর্টফোলিও, প্ল্যাটফর্ম ও সামগ্রিক কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানো প্রয়োজন ছিল। তিনি জানান, নতুন কাঠামোর অধীনে জনপ্রিয় গেম মাইনক্রাফট-এর নির্মাতা মোজং এবং ক্যান্ডি ক্রাশ-এর নির্মাতা কিং এখন থেকে সরাসরি তার কাছে প্রতিবেদন দেবে।

