করের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে তা জানানো হবে: তিতুমীর

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর|ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নাগরিকেরা তখনই কর দিতে আগ্রহী হবে যখন তারা বুঝতে পারবে তাদের দেওয়া করের মাধ্যমে রাষ্ট্র কী ধরনের সেবা দিচ্ছে। রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক না থাকলে কর ফাঁকি ও জালিয়াতি কমানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

ড. তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যতে করদাতাদের এমন রসিদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দেখানো থাকবে তাদের করের অর্থ কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে। আগামী বাজেট থেকেই এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মে মাসের ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এল ৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা

তিনি আরও বলেন, দেশে কর ফাঁকি ও জালিয়াতির পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি বড় ভূমিকা রাখছে। করব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা অত্যন্ত কম বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তাঁর মতে, শক্তিশালী করব্যবস্থা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি করব্যবস্থায় দুই ধরনের সংস্কারের কথা তুলে ধরেন-একটি হলো করদাতা ও কর কর্মকর্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমানো, আর অন্যটি হলো করদাতাকে তার অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে অর্থনীতির পরিসর বৃদ্ধি করে রাজস্ব আয় বাড়াতে চায়। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বাড়ানোকে প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে সরকার।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় নতুন বিমানবন্দর, তৈরি হবে ফ্লাইং একাডেমিও

তিনি জানান, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সহায়তা এবং এসএমই নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ও করব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে মতামত দেন।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!