দীর্ঘ ছয় বছর পর লটারি পদ্ধতি বাতিল করে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিন বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই নীতিমালাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন : প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৫টি সংস্কার জরুরি: ববি হাজ্জাজ
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরেই নতুন ভর্তি পদ্ধতি কার্যকর হবে।
এদিকে লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা অঙ্গনে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিভাবকদের একটি অংশ প্রাথমিক স্তরে লটারি বহাল রাখার পক্ষে মত দিলেও, অনেকে পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে শিক্ষাবিদদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক কোচিং বাণিজ্য ও শিশুদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও তীব্র হতে পারে।
আরও পড়ুন : গুচ্ছ ভর্তির নেতৃত্বে পবিপ্রবি-নোবিপ্রবি, যুক্ত হতে পারে নতুন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এর পরিবর্তে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ের মান সমকক্ষ করা গেলে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সন্তানদের নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা বাধ্যতামূলক করা হলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির সময় ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম চালু হয়, যা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বলবৎ রয়েছে। সেই প্রথা থেকে সরে এসে সরকার এখন মেধাভিত্তিক মূল্যায়নে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

