দেশের প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এম.ফিল-পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান ফোরামের সভাপতি ড. মোহা. আহমাদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ তোফায়েল উদ্দিন।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ধারক হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও আলিয়া মাদ্রাসাসমূহ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষা প্রদান করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
আরও পড়ুন: নটর ডেম কলেজে ভর্তির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় যা যা আনতে হবে
বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৩-এর তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬২৮টি, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৩টি, সরকারি কলেজ ৬৩৭টি এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি। অথচ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা মাত্র তিনটি। এরকম চরম বাস্তবতা ও পাহাড়সম বৈষম্য নিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান গৌরব করার মতো। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও টেকসই করতে মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ফলাফল প্রকাশ কবে, যা বলছেন কর্মকর্তারা
এতে আরও বলা হয়, তবে সীমাবদ্ধতার কারণে এক সাথে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব না হলে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত। তাতে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে।
জাতীয় স্বার্থে ও মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন ফোরামের নেতারা।

