আজ শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা|ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমানের পরীক্ষাও। এ বছর মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি–ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে।

প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। বিশেষ কারণে কেউ দেরিতে পৌঁছালে তার তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা–২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম-অবহেলা পেলে পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী


এ বছর মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট শেষ হবে। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী।

বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনের আওতায় এবার পরীক্ষা পরিচালিত হবে। নকল কিংবা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে নির্ধারিত আসনে উপস্থিত থাকতে হবে। পরীক্ষা শুরু হবে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশ দিয়ে, এরপর অনুষ্ঠিত হবে সৃজনশীল বা রচনামূলক (সিকিউ) পরীক্ষা। ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আর ব্যবহারিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ২৫ মিনিট ও ৫০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। এমসিকিউ ও সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না এবং প্রশ্নপত্রে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিরতিহীনভাবে পরীক্ষা চলবে।

আরও পড়ুন: বাকৃবি ১৩ বিভাগে নিয়োগ দেবে ১৭ লেকচারার, আবেদন ৭ জুলাই পর্যন্ত

সকাল ১০টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ, ১০টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র এবং ১০টা ৩০ মিনিটে (২৫ নম্বরের এমসিকিউ হলে ১০টা ২৫ মিনিটে) ওএমআর সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। একইভাবে দুপুর ২টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট, ২টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র এবং ২টা ৩০ মিনিটে (২৫ নম্বরের এমসিকিউ হলে ২টা ২৫ মিনিটে) সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। উত্তরপত্রের ওএমআর অংশে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত পূরণ করতে হবে। উত্তরপত্রে মার্জিনের মধ্যে লেখা বা উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক (যেখানে প্রযোজ্য) প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।

প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। পরীক্ষার্থীরা শুধু নন-প্রোগ্রামেবল হাতঘড়ি এবং শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!