টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্নপত্রের ভুল সংশোধন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ আট দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকা ও বগুড়ায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা মিরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা কলেজের সামনে এবং আরেকটি অংশ টিএসসির দিকে অগ্রসর হন।
টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের সামনে পৌঁছালে বেলা সোয়া ১টার দিকে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। সেখানে পুলিশও সতর্ক অবস্থান নেয়।
আন্দোলনে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আরও পড়ুন: তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি: রাষ্ট্রপতি
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও কাদা পেরিয়ে কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ নৌকায় করেও পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। প্রতিকূল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন।
তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। কিন্তু এ দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, কঠিন প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি নেই; তবে প্রশ্নপত্রে ভুল থাকা এবং বিদ্যমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন না হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করেছেন—পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষামন্ত্রীর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের ‘গবেষণা’ বন্ধ, শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য নম্বর প্রদান, সারা বছরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
আরও পড়ুন: ‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’—স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের প্রধান তিনটি দাবি হলো—পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, ভুল প্রশ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের যথাযথ নম্বর দেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা।
দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই তারা অনড় থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
একই দাবিতে বগুড়াতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

