নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগে চার এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা প্রভাষককে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
রবিবার (৩০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের সই করা এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: একাদশে ভর্তিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল নটর ডেম কলেজ, আবেদন ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর
চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির আট বছর পূর্ণ হলে ৫০ শতাংশ কোটা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মোট পদের সংখ্যা বাড়বে না।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ শতাংশ কোটার আওতায় পদোন্নতি না পাওয়া প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকরি পূর্ণ করলে বেতন স্কেলের গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৮ পাবেন। পরবর্তী ছয় বছরসহ মোট ১৬ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে তারা সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মেমিস সেলের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চারজন প্রভাষক উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করে গ্রেড-৮ সুবিধা নিয়েছেন। এর ফলে তারা নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: একাদশে ভর্তিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল হলি ক্রস কলেজ, আবেদন ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর
এ অবস্থায় জুলাই মাসের এমপিও শিটে সংশ্লিষ্ট চার প্রভাষকের বেতন কোড গ্রেড-৮ থেকে পরিবর্তন করে বিধি অনুযায়ী আগের গ্রেড-৯ পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে অধিদপ্তরকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পিডিআর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাদের অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— চট্টগ্রামের চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া বার আউলিয়া হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. ওসমান গনি, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শম্ভুপুর ডিএসএন আলিম মাদ্রাসার হাদিস বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার হাদিস বিভাগের প্রভাষক মো. ওবায়দুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশপুরের মাদার বাজার এবিএস মাদ্রাসার হাদিস বিভাগের প্রভাষক শামিমা খাতুন।

