কারিগরি শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম শুরুর ঠিক আগে শূন্যপদের তথ্য নিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। মূলত সফটওয়্যার ও বাস্তব পরিস্থিতির অমিলের কারণে এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে; যেখানে কোনো শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সফটওয়্যারে পদটি ‘শূন্য’ দেখাচ্ছে। ফলে ওই শূন্যপদে অন্য শিক্ষককে বদলি করা হলে আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকটি সমস্যায় পড়তে পারেন। বিষয়টিকে ‘টেকনিক্যাল প্রবলেম’ হিসেবে দেখছে অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু আজ, লাগবে যেসব কাগজপত্র
অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সফটওয়্যার এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের এই ফারাকের কারণে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট পদে শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নানা জটিলতায় তাঁর এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) হতে দেরি হতে পারে। কিন্তু অধিদপ্তরের সফটওয়্যারে এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই পদটিকে শূন্য হিসেবে প্রদর্শন করা হয়।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ‘একটা প্রতিষ্ঠানে টিচার নিয়োগ দেওয়া আছে একটা পদে, কিন্তু এমপিও হয় নাই। আমাদের লিস্টে কিন্তু ওই পদটা ফাঁকা দেখায়। অথচ প্রিন্সিপাল জানেন যে ওই পদে লোক কর্মরত আছেন।’
যেসব কারণে তৈরি হয় জটিলতা:
নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রের জটিলতা, সনদে ত্রুটি কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সার্টিফিকেটের নামের অমিলসহ বিভিন্ন কারণে অনেক শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পরও এমপিওভুক্ত হতে সময় লাগে। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে তারা নিয়মিত শিক্ষক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন। অধিদপ্তর বলছে, সফটওয়্যারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যদি ওই ‘শূন্য’ পদে অন্য কোনো শিক্ষককে বদলি করা হয়, তবে বাস্তবে কর্মরত শিক্ষক বড় বিপদে পড়বেন। একে অধিদপ্তর একটি বড় ‘টেকনিক্যাল প্রবলেম’ হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দেবে শিক্ষক-কর্মকর্তা, আবেদন ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
তথ্য হালনাগাদে সময়সীমা বৃদ্ধি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
সফটওয়্যারে সঠিক শূন্যপদের তথ্য হালনাগাদ করার জন্য এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ই-মেইল অ্যাক্সেস ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে তথ্য হালনাগাদ করতে না পারায় সময়সীমা বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এরপরও অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্যপদের সঠিক চাহিদা জমা দিতে পারেনি বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বাস্তব পরিস্থিতি ও সফটওয়্যারের এই অমিল নিরসন না করে বদলি কার্যক্রম শুরু করলে জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।

