স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে থাকা মিশনের শিক্ষক নিয়োগপত্রের জটিলতা কাটল

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেন মিশন আচার্য
নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেন মিশন আচার্য|ছবি: সংগৃহীত

স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, অবশেষে তার সমাধান হয়েছে। ঝিনাইদহ সদরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিশন আচার্য এখন নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদার) মো. রাশেদ খাঁন। এ সময় মিশনের নিয়োগপত্র আটকে থাকার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়' মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত

সাক্ষাতের পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন মো. রাশেদ খাঁন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছে... মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ অংশ নিয়ে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন আচার্য। তার রোল নম্বর ৬৫১৫৩২৮। তবে স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় তার নিয়োগপত্র আটকে যায়।

মিশনের সঙ্গে একই সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মিশন এবং মামলা সংক্রান্ত কারণে আরও একজনকে তখন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

মিশনের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার জন্মের আগেই বাবা নন্দ আচার্য পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর মা ময়না আচার্য মানুষের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। নানা আর্থিক সংকটের মধ্যেও মিশনের পড়াশোনা থেমে থাকেনি।

আরও পড়ুন: বিদেশে পড়াশোনার আগে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করবেন যেভাবে

ঝিনাইদহে বেড়ে ওঠা মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

চাকরির আবেদনের সময় মিশন ঝিনাইদহ সদরের কলাবাগান এলাকার ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশি যাচাইয়ে কলাবাগানের ওই ঠিকানায় তার বসবাসের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।

মিশনের নানা বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে পরিবারের নিজস্ব কোনো বাড়ি না থাকলেও ২০২২ সালে তার এক মামা তাকে দুই শতক জমি লিখে দেন। চাকরি পাওয়ার পর ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করার স্বপ্ন দেখছিলেন মিশন।

অবশেষে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে নিয়োগপত্র পাওয়ার জটিলতা কাটায় মিশনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!