ঢালিউডে কাজের ধরন, প্রস্তুতি ও নির্মাণ ভাবনায় বদলের হাওয়া বইছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। তাঁর মতে, সিনেমার মান ধরে রাখতে এখন আর কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই; প্রয়োজন শতভাগ পেশাদারিত্ব ও নিবেদন। নতুন চলচ্চিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে দেশীয় সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি ও কারিগরি দলের কাজের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকনিশিয়ান ও কারিগরি কর্মীদের মেধার মূল্যায়ন করে অপু বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান বা কারিগরি পারসন আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে আমরা বা আমাদের আগের-পরের শিল্পীরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতেন না।’ তবে সময়ের সঙ্গে কাজের ধরনও বদলাচ্ছে বলে মনে করেন অপু। তাঁর ভাষ্য, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের গড়ে তোলা এবং নিয়মিত আপডেট হওয়া জরুরি।
বর্তমান প্রজন্মের টিমগুলোর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনাল। প্রফেশনালিজম বলতে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে কাজটাই করা হোক না কেন, সেখানে ডেডিকেশন থাকবে ১০০ পারসেন্ট, কোনো ছাড় থাকবে না।’ অপুর মতে, অতীতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সিনেমার লোকেশন কিংবা নির্মাণের অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক সময় আপস করতে হতো। তবে নতুন প্রজন্মের নির্মাতা ও কারিগরি দল গল্পের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করতে চায় না। তাদের এই মনোযোগ ও নিষ্ঠাই পেশাদারিত্বের প্রমাণ। আর দেশীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে এমন মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আমির হামজার ওয়াজ-খুতবা নিষিদ্ধের দাবি রাশেদ খাঁনের
স্বদেশি শিল্পী ও কারিগরি দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও বিশেষ বলে উল্লেখ করেন অপু। তাঁর মতে, কাজের পাশাপাশি দেশীয় টিমের সঙ্গে এক ধরনের আন্তরিকতাও তৈরি হয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সিনেমার কাজের ভালো-মন্দ মূল্যায়নের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলেও জানান এই অভিনেত্রী। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যে নতুন পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

