দুর্গাপূজা এলেই মনে পড়ে নতুন পোশাক, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি, আত্মীয়দের সঙ্গে আড্ডা আর একসঙ্গে খাওয়াদাওয়ার দিনগুলো। কিন্তু শৈশবের সেই আনন্দময় স্মৃতির সঙ্গে এবারও মিশে আছে এক গভীর শূন্যতা। উৎসব এসেছে, চারদিকে আনন্দের আবহ, অথচ পাশে নেই মা।
তাই দুর্গাপূজার এই সময়ে মাকে আরও বেশি মনে পড়ছে অভিনেত্রী পূজা চেরির। মাকে মিস করার অনুভূতি জানিয়ে পূজা বলেন, ‘পূজা এলো, অথচ মা নেই। তাঁকে ভীষণ মিস করি, বিশেষ করে এই আনন্দময় মুহূর্তে বেশি মনে পড়ছে। মা থাকলে পূজার আনন্দটা সত্যি অন্য রকম হতো।’
খুলনায় গ্রামের বাড়ি হলেও পূজার বেড়ে ওঠা রাজধানীর হাজারীবাগে। শৈশবের দুর্গাপূজার স্মৃতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে পুরান ঢাকার অলিগলি আর মন্দিরগুলো। তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। নতুন পোশাক পরা, উপহার পাওয়া আর বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোয় উৎসবের দিনগুলো হয়ে উঠত আনন্দময়।
আরও পড়ুন: চা-বাগানের গল্প এবার মস্কোয়, আন্তর্জাতিক উৎসবে ‘নিশি’
মহালয়া থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পূজার প্রতিটি দিনেই থাকত নানা আয়োজন। বাড়িতে আসতেন আত্মীয়স্বজন, চলত গল্প-আড্ডা ও খাওয়াদাওয়া। সেই দিনগুলো এখন স্মৃতির অংশ। সময় বদলেছে, বদলেছে উৎসব উদ্যাপনের ধরনও। কিন্তু শৈশবের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মায়ের অনুপস্থিতি পূজার কাছে এখন সবচেয়ে বড় শূন্যতা।
মাত্র আট বছর বয়সে ‘ভালোবাসার রং’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন পূজা চেরি। শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরুর পর বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘পোড়ামন-২’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় পরিচিতি পান। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দম’, যেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেও উৎসবের দিনগুলো পূজাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের স্মৃতিতে। তবে সেই স্মৃতির আনন্দের পাশেই এবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে মায়ের না থাকার কষ্ট।

