মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ দেশের চলচ্চিত্রে আলোচিত এক নির্মাণ হিসেবে ইতোমধ্যে দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কোরবানির ঈদে মুক্তির পর দেশ-বিদেশে সিনেমাটি পেয়েছে দর্শকের ভালোবাসা। বিশেষ করে সিনেমার দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র সাদু ও সাদুর বউ দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সাদু চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং সাদুর বউ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি।
চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেদের সাজ, বেশভূষা ও শারীরিক অবয়বে যে পরিবর্তন এনেছেন তারা, তা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক-সমালোচকেরা। বিশেষ করে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে তুষিকে দেখে অনেকেরই তাকে চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এবার সেই চরিত্র হয়ে ওঠার নেপথ্যের কিছু অদেখা মুহূর্ত প্রকাশ্যে এনেছেন তুষি।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান
মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রইদ’-এর শুটিংয়ের সময় ধারণ করা একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশে ‘সাদুর বউ’ হয়ে কাজ করার নানা মুহূর্ত দেখা যায়। ছবির সঙ্গে দীর্ঘ এক লেখায় তুষি জানান, ‘রইদ’ তার অভিনয়জীবনের অন্যতম বিশেষ অভিজ্ঞতা।
তিনি লেখেন, “‘রইদ’ এমন একটা সিনেমা, যে সিনেমার এক্সপেরিয়েন্স কয়জন মানুষ এমন কাজের মধ্যে দিয়ে জীবনে উপভোগ করতে পারে, তা আমি জানি না। তবে আমি অনেক ভাগ্যবান, যে আমি সেটা করতে পেরেছি।” ‘সাদুর বউ’ চরিত্রটি দর্শক যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাতেও আবেগাপ্লুত তুষি। তার ভাষায়, চরিত্রটির পেছনের অনেক গল্প হয়তো দর্শকের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে, তবে নিজের স্মৃতিতে এই অভিজ্ঞতা আজীবন বেঁচে থাকবে।
আরও পড়ুন: অভিনয় ছাড়ছেন না হাসান মাসুদ, ‘ভুলভাবে বোঝা হয়েছে আমার কথা’
চরিত্রটি হয়ে ওঠার পেছনে নির্মাতা, পুরো টিমের পাশাপাশি শুটিং এলাকার গ্রামবাসীদের অবদানও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তুষি। তিনি জানান, গ্রামের মানুষের সরলতা ও ভালোবাসার সঙ্গে মিশে যেতে যেতে নিজেও যেন তাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। তুষি লিখেছেন, শুটিংয়ে কোনো দৃশ্যে ‘পাগলীকে’ মারার প্রয়োজন হলে গ্রামবাসীরা বিষয়টি মেনে নিতে পারতেন না। এমনকি তারা পরিচালকের সঙ্গে এ নিয়ে তর্কও করতেন। তবে সাদু চরিত্রকে মারার ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল না, কিন্তু ‘পাগলী’কে কখনোই মারতে দিতেন না।
‘রইদ’-এর পর দর্শকের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করছেন তুষি। কোনো পুরস্কারের চেয়েও মানুষের এই ভালোবাসাকে বেশি মূল্যবান বলে মনে করেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, মানুষ মানুষের ভালোবাসা এবং প্রকৃতির ভালোবাসার মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে। কোনো অচেনা মানুষ যখন নিজের অনুভূতির কথা তাকে জানান, তখন সেটিকেই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আসল সার্থকতা মনে হয় তার।
আরও পড়ুন: বিমান বাহিনী নিয়োগ দেবে অফিসার ক্যাডেট, আবেদন ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
‘সাদুর বউ’ হয়ে উঠতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের জীবনযাপন পর্যবেক্ষণ করেছেন তুষি। পেরিয়েছেন নানা চ্যালেঞ্জ। তবে শেষ পর্যন্ত তার উপলব্ধি—যে ‘পাগলী’ চরিত্রটি তিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, সেটি যেন তার নিজের আত্মার ভেতরেই ছিল। সবশেষে তুষি লিখেছেন, নানা অনুভূতির মধ্য দিয়ে তিনি ‘রইদ’-এর পাগলী কিংবা ‘সাদুর বউ’ হয়ে উঠেছেন। দর্শকের ভালোবাসার সেই চরিত্রের কিছু মুহূর্তই এবার সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আর এই ভালোবাসা যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে—এটাই তার প্রত্যাশা।
