রোববার (৯ আগস্ট) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডনকে। পরে বিকেলে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত আছেন কি না জানতে চান। তবে তার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
আরও পড়ুন : ২৯ বছর পরও অমীমাংসিত প্রশ্ন, এবার সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডনকে কারাগারে পাঠানোর পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ডন দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিআইডিকে জানায়। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা ও তদন্ত চলে।
আরও পড়ুন: জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর চাকরির নিয়োগপত্র
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

