বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন এই তারকা। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর আকস্মিক মৃত্যু আজও ঘিরে আছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই আলোচনায় এসেছে—এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? দীর্ঘ ২৯ বছর পরও সেই রহস্যের পুরোপুরি সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে তাঁর সহশিল্পী শাবনূরের নাম। এতদিন নীরব থাকলেও এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন: জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর চাকরির নিয়োগপত্র
শাবনূরের দাবি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ সম্প্রতি তাঁকে সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন এবং তাঁর আত্মহত্যার জন্য দায়ী করেছেন। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন শাবনূর। নিজের বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রিজভীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ই যদি সালমানের মৃত্যুর পর হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে তিনি শাবনূরের ব্যক্তিগত আচরণ বা সালমানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্পর্কে এমন দাবি করতে পারেন।
রিজভীর বক্তব্যে তাঁকে সালমান ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শাবনূর। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কারও সঙ্গে কূটনামি করা তাঁর স্বভাব নয় এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউ এমন আচরণের উদাহরণও দিতে পারবেন না। পোস্টে রিজভী আহমেদের অতীতের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শাবনূর। তাঁর দাবি, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। সেখানে তিনি অর্থের বিনিময়ে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার দাবি করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন শাবনূর।
আরও পড়ুন: বাবাকে হারালেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি
তবে শাবনূর প্রশ্ন তুলেছেন, এত বছর পর একই ব্যক্তি ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করছেন এবং একই সঙ্গে সালমানের মা নীলা চৌধুরী ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। তাঁর ধারণা, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য, প্ররোচনা কিংবা আর্থিক স্বার্থ থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে একেবারেই দ্ব্যর্থহীন শাবনূর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। কীভাবে সালমান মারা গেছেন, সে বিষয়েও তাঁর কোনো ধারণা নেই বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের ‘হানিট্র্যাপ’: গ্রেপ্তার ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট
সালমান শাহকে শুধু সহশিল্পী নয়, বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করে শাবনূর বলেন, তাঁর অকাল মৃত্যু আজও তাঁকে ব্যথিত করে। তাই ব্যক্তিগত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই শাবনূরের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না—তার উত্তর মিলবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।
