জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে মানুষের কল্যাণে স্মরণীয় একটি কাজ করে যেতে চান বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। সেই ভাবনা থেকেই যশোরে নিজের পৈতৃক ভিটায় একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বিজয়নগরে অবস্থিত তাদের দাদাবাড়ি ঘুরে দেখেন ববিতা। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সেই সফরেই মসজিদ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি চূড়ান্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: রোমান্টিক নায়িকা নয়, এবার খলনায়িকা হতে চান পূর্ণিমা
গণমাধ্যমে ববিতা বলেন, “এবার দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। এতে আমার খুব শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম হয়েছে, মৃত্যু একদিন হবেই। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগিরই মসজিদের নকশা করব। এরপর ধীরে ধীরে নির্মাণকাজ শুরু হবে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
আরও পড়ুন: ৬২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার শিল্পকলার মঞ্চে একক কনসার্টে রুনা লায়লা
সম্প্রতি চলচ্চিত্রের আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনাও নিজ জেলার পৈতৃক ভিটায় মায়ের নামে একটি ১০ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তুরস্কের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণে নির্মিত সেই মসজিদটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে একটি দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ববিতার। তখন তার নাম ছিল সুবর্ণা। পরে ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় পরিচালক জহির রায়হান তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘ববিতা’। সেই নামেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠেন।

