ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ ডাকসু নেতা মুসাদ্দিকের

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ করেছেন ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক
হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ করেছেন ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক|ছবি: সৌজন্যে প্রাপ্ত

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কার্যালয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ দেন এই ডাকসু নেতা।

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট তাসনিম জারার

অভিযোগের পর সংবাদ সম্মেলন মোসাদ্দিক বলেন, আজ বেলা ১টা ২২ এর দিকে কলাভবনের পিছনের যে গেট রয়েছে, সেই গেট ও ছাউনির নীচে এবং সিঁড়ির এখানে—এখান দিয়ে আমি ক্লাসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম— ১টা ৩০-এ আমার ক্লাস ছিল। সাথে রিয়াদ জুবা নামে আমার এক বন্ধু ছিল। আমরা দুজন একসাথে যাচ্ছিলাম। ১টা ৩০-এ আমার ক্লাস ছিল। এই সময়ে ৬-৭ সেশনের ছাত্রদলের নেতা আলাউদ্দীন আমার পথরোধ করে দাঁড়ায় এবং তার সাথে আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ছিল।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

তিনি আরও বলেন, ​তারা শুরুতেই আমাকে চার্জ করতে থাকে যে, আমি কেন তার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছি। তাকে তো সিট দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আমি তার বিরুদ্ধে কেন পোস্ট দিলাম। তখন আমি খুব সুন্দরভাবে বললাম যে, দেখুন আপনার সাথে আমার এইটা নিয়ে কোনো ডিবেট নেই। আপনাকে যে আমি পোস্ট দিয়েছি, সেই পোস্টে আপনাকে নিয়ে কোনো অপরাধমূলক ভাষায় কথা বলিনি, যা আপনার সাথে যায় না। বরং আপনাকে ভদ্রলোক বলেই সম্বোধন করেছি। আপনাকে 'বিশেষ বিবেচনায়' সিট দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটি নিয়ম-নীতির বাইরে, নীতিমালাতে নেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জিজ্ঞাসা করেছি যে তাকে কিসের ভিত্তিতে সিট দেওয়া হলো? তারা জানিয়েছে যে এটি নিয়ম-নীতির মধ্যে নয়, বরং বিশেষ বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: ববি হাজ্জাজ

ডাকসুর এই নেতা বলেন, ​এই বিশেষ বিবেচনায় ৩৬ জনকে যে সিট দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় যা পেয়েছি—তারা ছাত্রদলের বড় বড় নেতা। তার মানে এটি বিশেষ বিবেচনা নয়, বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনা। এবং এই বিবেচনা অবশ্যই অবৈধ। কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেখানে বৈধভাবে সিট পাচ্ছে না, সেখানে অবৈধভাবে তাদের সিট দেওয়া হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা

মোসাদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। প্রথমে বলে যে তোর দাঁত থাকবে না। এরপর বেশ কিছু গালিগালাজ করে। অনেকক্ষণ গালিগালাজের এক পর্যায়ে সে আমাকে মারতে উদ্যত হয়। আশেপাশে যারা ছিল তারা তাকে সরিয়ে নিতে চায়, কিন্তু সে বারবার তেড়ে এসে আমাকে মারতে চায়। এভাবে দুই-তিনবার করার পর তাকে তার সঙ্গীরা সেখান থেকে নিয়ে যায়। সে যাওয়ার সময় একের পর এক হুমকি দিচ্ছিল। তার হুমকি-ধমকিতে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তবে আমরা মোটেও ভীত নই— এই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করতে যেয়ে যদি শহিদ আবরার ফাহাদের মতো আমাকে জীবনও দিতে হয় তবুও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে আমি পিছপা হবো না। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আগে যেভাবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি একইভাবে নব্য ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যাবো।

আরও পড়ুন: শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

ছাত্রদল নিয়ে মুসাদ্দিক বলেন, গতকালই এই সন্ত্রাসীরা একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর পায়ের গোড়ালি কেটে নিয়েছে কেবল প্রতিপক্ষ রাজনীতি করার কারণে। রাজশাহীতে এক শিক্ষার্থীর ওপর ছুরি চালানো হয়েছে। তারা অহরহ খুন করছে। ছাত্রদল-বিএনপির খুনের সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় তিন ডজনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। নির্বাচনের পর তারা অসংখ্য খুন করেছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি

শেষে তিনি বলেন, ​আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। যেকোনো মুহূর্তে তারা যেকোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে। আমি প্রক্টরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর বিচারর চাই। অবিলম্বে এই অবৈধ সিটধারীদের সিট বাতিল এবং যারা নিয়ম লঙ্ঘন করে সিট দখল করে আছে, তাদের বের করে সাধারণ ও নিডি শিক্ষার্থীদের সিট প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। যদি প্রশাসন আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় এবং এর ফলে পরবর্তীতে আমার বা আমার কোনো সহযোদ্ধার ওপর কোনো নৃশংসতা ঘটে, তবে এর দায়ভার সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!