ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টনে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নির্দেশিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের যেখানে পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র চারটি বিষয় নির্ধারণ করা রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এই কাঠামোর কারণে অন্য ইউনিটগুলোর তুলনায় এ ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো অনলাইনে সার্টিফিকেটের আবেদন
পরীক্ষা পদ্ধতির পার্থক্য
সাধারণ কারিকুলাম: সাধারণ শিক্ষামাধ্যম, মাদরাসা, কারিগরি ও ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের এমসিকিউ অংশে মোট পাঁচটি বিষয়ে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা—এই চারটি আবশ্যিক বিষয়ের বাইরে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন অথবা ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমার যেকোনো একটি বিষয় বেছে নিতে হয়।
ইংরেজি মাধ্যম: এই শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী অংশে ইংরেজিতে ১৬ এবং অ্যাডভান্সড ইংরেজিতে ১২ নম্বর থাকে। পাশাপাশি বিজনেস স্টাডিজ, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিকস ও ম্যাথমেটিকস—এই চারটি বিষয়ের মধ্যে থেকে মাত্র দুটি বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের মোট চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয় এবং লিখিত অংশেও রয়েছে ভিন্নতা।
আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা বাধ্যতামূলক: মাউশি
দীর্ঘদিনের প্রচলন
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পৃথক প্রশ্নপত্র ও নম্বর বণ্টনের কাঠামো সম্প্রতি চালু হয়নি। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নির্দেশিকাতেও একই তথ্য পাওয়া গেছে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও এই পৃথক কাঠামো বহাল রয়েছে।
উত্তীর্ণের হারের ব্যবধান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণের হার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকে। অথচ ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে এই হার পৌঁছে যায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে এই কাঠামোতেই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হয়ে আসছে এবং এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কারও কোনো অভিযোগ বা আপত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

