ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, নেওয়া হলো ৪ সিদ্ধান্ত

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ|ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের এক নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা এবং পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টোরিয়াল বডির পক্ষ থেকে চার দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে উপাচার্যের নির্দেশে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এতে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য করা হয়েছে। এবং এ কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রক্টোরিয়াল বডি জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা নিবে এবং সংঘর্ষের ঘটনা পর্যালোচনা করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং সকল হলে বিভাগ ভিত্তিক মেধার আলোকে আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের ১০ স্কলারশিপ

উল্লেখ্য, এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমান কর্তৃক হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডি অভিযুক্ত আলীনুরকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। এরপর শাখা ছাত্রদল দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে শিবির বিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়।

দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন দিতে দেখা যায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এক পর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রদান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!