পূর্ণাঙ্গ সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে পাবনা। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া কৃষি মহাবিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএড পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নির্বাচনের সময় জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালিও অব্যাহত রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
পাবনা একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানে পেঁয়াজ, চাল, গম, সবজি, ডাল ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যাপক উৎপাদন হয়। এ অবস্থায় জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং দক্ষ কৃষিবিদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, “পাবনার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখে আসছে। নির্বাচনের সময় আমি সাধারণ মানুষকে কথা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা পাবনাবাসীর স্বপ্নের প্রথম বড় জয়। এটি দ্রুত বাস্তবায়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
আরও পড়ুন: জাল সনদ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান এপিইউবির
এ বিষয়ে দোতলা কৃষি ব্যবস্থাপনার আবিষ্কারক কৃষিবিদ জাফর সাদেক বলেন, ১৯৮০ সাল থেকেই পাবনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তবে পরে এ উদ্যোগের আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অগ্রগতির খবরটি পাবনার মতো কৃষিভিত্তিক জেলার জন্য সুখবর। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ অঞ্চলে জমি ও অবকাঠামোগত সুযোগ তৈরি করাও সহজ হবে।
কৃষিবিদ জাফর সাদেক আরও বলেন, ইউজিসির সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন দ্রুত সম্পন্ন করে জমি অধিগ্রহণ ও আইন প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।

